Home খবর ইয়টে রাষ্ট্রদূত, তুঙ্গে ইতালির বিতর্ক

ইয়টে রাষ্ট্রদূত, তুঙ্গে ইতালির বিতর্ক

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
11 views 5 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ট্রাম্প–মেলোনি উত্তেজনার মধ্যেই ইতালি জুড়ে সুপারইয়টে ভ্রমণ করছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিলম্যান জে. ফার্টিটা
  • প্রায় ৪৫ কোটি ডলার মূল্যের ৩৮৪ ফুট দীর্ঘ ইয়টে সিসিলির জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের আপ্যায়ন।
  • রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত ইয়টের নিরাপত্তায় ইতালীয় পুলিশের ব্যয় নিয়ে তদন্তের দাবি বিরোধীদের।
  • ফার্টিটার দাবি, ট্রাম্প ও মেলোনি—দু’জনের সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে; এই বিরোধে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচ্য বিষয়, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইতালিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিলম্যান জে. ফার্টিটা। সরকারি বৈঠক বা কূটনৈতিক তৎপরতার বদলে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইতালির উপকূল চষে বেড়াচ্ছেন নিজের প্রায় ৪৫ কোটি ডলার মূল্যের বিলাসবহুল সুপারইয়টে।

৩৮৪ ফুট দীর্ঘ, সাততলা এই সুপারইয়ট ইতালির একাধিক সমুদ্রবন্দরে নোঙর করেছে। সিসিলির পালের্মো উপকূলে অবস্থানকালে ফার্টিটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানান। অতিথিদের জন্য ছিল সুইমিং পুল, জাকুজি, স্পা, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, গল্‌ফ অনুশীলনের ব্যবস্থা, একাধিক বার এবং দুটি হেলিকপ্টার অবতরণের সুবিধাসহ নানা বিলাসবহুল আয়োজন। পরিবেশন করা হয় ইতালীয় খাবার ও পানীয়ও।

একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে—ইয়টে জুতো পরে ওঠা নিষিদ্ধ। ফলে অতিথিদের অনেককেই খালি পায়ে ইয়ট ঘুরতে ও ছবি তুলতে দেখা যায়। পরে সেই ছবির কিছু অংশ রাষ্ট্রদূত নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।

কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিলাসবহুল সফর

ফার্টিটার এই সমুদ্রভ্রমণ এমন সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলোনির সমালোচনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছেন এবং এক পোস্টে মেলোনির বিরুদ্ধে যেন ‘নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ’ জারি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

এই উত্তেজনার মাঝেও ফার্টিটা অবশ্য পরিস্থিতিকে গুরুত্বহীন বলেই দেখাতে চেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প ও মেলোনি—দু’জনের সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, “দু’জনের কথাতেই কিছু না কিছু সত্যতা রয়েছে।”

তিনি স্বীকার করেন, ট্রাম্প মেলোনির ওপর অসন্তুষ্ট। তবে তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের অসন্তোষ প্রকাশ্যে জানাতে দ্বিধা করেন না বলেই বিষয়টি এত বেশি আলোচনায় এসেছে।

ফার্টিটার দাবি, এই মতবিরোধ তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা যুক্তরাষ্ট্র–ইতালি কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

বিরোধীদের প্রশ্ন: রাষ্ট্রদূত নাকি বিলাসী পর্যটক?

তবে ফার্টিটার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ইতালির বিরোধী রাজনৈতিক মহল। তাদের অভিযোগ, দুই দেশের সম্পর্ক যখন স্পর্শকাতর পর্যায়ে, তখন রাষ্ট্রদূতের উচিত ছিল সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল সফরে ব্যস্ত থাকা নয়।

ইতালির লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিকেলে মাসনেরি ব্যঙ্গ করে বলেন, ঘটনাটি যেন কোনও ইতালীয় কমেডি সিনেমার চিত্রনাট্য। তাঁর মন্তব্য, “মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাজের বড় অংশই বোধহয় উচ্চমানের পর্যটক হিসেবে ইতালি ঘোরা।”

নিরাপত্তা ব্যয় নিয়েও বিতর্ক

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

বিরোধী এক সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত সুপারইয়টকে নিরাপত্তা দিতে ইতালীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কত সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। যদিও ইতালি সরকার এখনও এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

কূটনৈতিক বার্তার বদলে বিলাসের ছবি

ফার্টিটার এই সফর এমন এক সময়ে চলছে, যখন ইরান, ন্যাটো এবং ভ্যাটিকান-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।

ফলে তাঁর বিলাসবহুল সুপারইয়ট সফর এখন আর শুধু ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার বিষয় নয়। সমালোচকদের মতে, এটি কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, সরকারি দায়িত্ব এবং জনসম্পদের ব্যবহারের প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। অন্যদিকে ফার্টিটার দাবি, ব্যক্তিগত সফর সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা সেই সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles