প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতায় পড়ুয়াদের প্রতিবাদের মধ্যে ২০২৬ সালের সমাবর্তন বাতিল করল বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (এনএলএসআইইউ)। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এই সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তাব ছিল।

স্নাতক হতে চলা পড়ুয়াদের পাঠানো একটি ইমেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ডক্টর সৌরভ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‘পরিচালন সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরে পড়ুয়াদের অনুপস্থিতিতেই ডিগ্রি প্রদান করা হবে। পড়ুয়ারা চাইলে কুরিয়ারের মাধ্যমে শংসাপত্র নিতে পারেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।’’

চলতি মাসের গোড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগ পড়ুয়াদের ইমেল করে বার্ষিক সমাবর্তনের প্রস্তাবিত তারিখ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বরের কথা জানিয়েছিল।

এর আগে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (বিসিআই) একটি নির্দেশের নিন্দা করে খোলা চিঠিতে সই করেছিলেন এনএলএসআইইউ থেকে এ বছর স্নাতক হতে চলা প্রায় ১৬৫ জন, বর্তমানে পাঠরত ৪০৯ জন এবং ১২৮ জন প্রাক্তনী।

গত ১৩ আগস্টের ওই নির্দেশে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (নালসার) এ বছরের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত না করতে রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে বলেছিল বিসিআই। নালসারের সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন সেখানকার পড়ুয়ারা। সেই প্রতিবাদের জেরেই নির্দেশটি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করে বিসিআই।

এনএলএসআইইউয়ের পড়ুয়ারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমরা জানি, নালসারের বিরুদ্ধে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করেছে বিসিআই। কিন্তু আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা যে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন অসাংবিধানিক ও বেআইনি পদক্ষেপ শুরু করতে পারে, সেটাই প্রশ্নের বিষয়। পরে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপের চরিত্র বা বৃহত্তর প্রভাব বদলে যায় না। বিসিআই এবং তার চেয়ারম্যানের দায়ও কমে না।’’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন একজন পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কে উদ্‌যাপন করার জন্যই এই আয়োজন। পরিবারের কাছেও সমাবর্তন একটি বড় সাফল্যের মুহূর্ত। উচ্চপদে থাকা যাঁরা পড়ুয়াদের প্রতি প্রকাশ্যে অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য দেখিয়েছেন, তাঁদেরই সেই পড়ুয়াদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো আপত্তিকর ও অপমানজনক। এটি পড়ুয়াদের এবং তাঁদের সংগ্রামকে উপহাস করার শামিল।’’

গত মাসে একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির মৌখিক মন্তব্যের পর নালসারে প্রতিবাদ শুরু হয়। দিল্লিতে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের বাড়াবাড়ির অভিযোগ নিয়ে ওই আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, ‘‘দয়া করে আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। এই সব ভিডিয়ো দেখার সময় আমাদের নেই।’’