উৎসবের মুখে ট্যাংরার নামী রেস্তরাঁয় অভিযান, ৫০০ কেজি মাছ-মাংস বাজেয়াপ্ত পুরসভার

যা জানা জরুরি
- কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: উৎসবের মরসুম শুরুর আগে শহরের খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁগুলিতে নজরদারি বাড়াল কলকাতা পুরসভা।
- বুধবার ট্যাংরার একটি জনপ্রিয় চিনা রেস্তরাঁয় আচমকা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম মাছ, মাংস ও চিংড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা।
- বাজেয়াপ্ত সামগ্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছিল বলে পুরসভা সূত্রের অভিযোগ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: উৎসবের মরসুম শুরুর আগে শহরের খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁগুলিতে নজরদারি বাড়াল কলকাতা পুরসভা। বুধবার ট্যাংরার একটি জনপ্রিয় চিনা রেস্তরাঁয় আচমকা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম মাছ, মাংস ও চিংড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা। বাজেয়াপ্ত সামগ্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছিল বলে পুরসভা সূত্রের অভিযোগ।
ট্যাংরার ‘বিগ বস’ রেস্তরাঁয় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান পুরসভার খাদ্য পরিদর্শকেরা। তাঁরা রান্নাঘর, হিমঘর এবং খাবার রাখার জায়গা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। পুরকর্তাদের দাবি, হিমায়িত মাছ ও মাংসের বহু প্যাকেটে কোনও চিহ্ন বা তারিখ লেখা ছিল না। ফলে সেগুলি কবে কেনা হয়েছিল কিংবা কত দিন ধরে হিমঘরে রাখা ছিল, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
হিমঘরের ভিতরে মাছ ও মাংসের একাংশ খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। খাদ্যসামগ্রীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিদর্শকেরা। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি হিমঘরে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম মাছ, মাংস ও চিংড়ি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করার জন্য পাঠানো হয়।
তবে বাজেয়াপ্ত সমস্ত খাদ্যসামগ্রী পরীক্ষায় পচা বা খাওয়ার অনুপযোগী প্রমাণিত হয়েছে—এমন কথা পুরসভার তরফে জানানো হয়নি। মূল অভিযোগ, খাবারগুলি প্রয়োজনীয় তারিখ, পরিচয়চিহ্ন এবং স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই রাখা হয়েছিল। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ পরীক্ষার ফল এবং পুরসভার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হতে পারে।
উৎসবের সময়ে কলকাতার রেস্তরাঁগুলিতে ক্রেতার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগে পুরনো বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে কি না, তা দেখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর এবং স্থানীয় পুর সংস্থাগুলি যৌথভাবে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাবার তৈরির কারখানায় অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও মধ্যমগ্রামের কয়েকটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে বাসি এবং পচা বলে সন্দেহ করা মাংস উদ্ধার করা হয়। সল্টলেক, শক্তিগড় ও দিঘাতেও একই ধরনের পরিদর্শন হয়েছে। উত্তরবঙ্গের লাটাগুড়িতে কয়েকটি পর্যটন আবাসের রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণের জায়গা পরীক্ষা করে তিনটি আবাসকে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
হুগলির ভদ্রেশ্বরে গুরুতর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি পাউরুটি তৈরির কারখানা চলার অভিযোগ ওঠায় সেটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, খাদ্য সুরক্ষার বিধি ভাঙলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যজুড়ে এই অভিযান চলবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



