হাইলাইটস:
- আজ বৈঠকে চম্পত রায় ও অনিল মিশ্রের ইস্তফা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে রামমন্দির ট্রাস্ট।
- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
- গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে আরএসএস; অযোধ্যায় পাঠানো হয়েছে শীর্ষ সংগঠক সুরেশ ‘ভাইয়্যাজি’ জোশীকে।
- দান-তছরুপ বিতর্কে সংঘ পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি আরএসএসের জাতীয় বৈঠকেও গুরুত্ব পাবে।
বাংলাস্ফিয়ার: অযোধ্যার রামমন্দিরে দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের আবহে সোমবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের ইস্তফা গ্রহণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তাও নির্ধারণ করা হতে পারে।
সূত্রের দাবি, ট্রাস্টের সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশ অবিলম্বে ইস্তফা গ্রহণের পক্ষে, অন্য অংশের মত, ১৫ জুলাই এসআইটি-র রিপোর্ট জমা পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে আরএসএস। সংগঠনের শীর্ষ নেতা সুরেশ ‘ভাইয়্যাজি’ জোশীকে অযোধ্যায় পাঠানো হয়েছে। সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, রামমন্দিরকে ঘিরে এই বিতর্ক শুধু একটি অপরাধমূলক তদন্তের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের আদর্শিক আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কর্নাটকে শুরু হতে চলা আরএসএসের বার্ষিক বৈঠকেও অযোধ্যা-কাণ্ড অন্যতম আলোচ্য বিষয় হবে। সংঘের নেতাদের একাংশের মতে, এই বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরি।
এর আগে আরএসএস প্রকাশ্যে জানিয়েছে, দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা মন্দির ট্রাস্টকে প্রশাসনিক ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে তদন্তকারীরা এখনও তছরুপ হওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন মহলে যে বিপুল অঙ্কের কথা প্রচার হচ্ছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে কম হতে পারে। তবে অর্থের উৎস, হিসাবরক্ষণ এবং দান গণনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মীদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।