হাইলাইটস:

  • তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী-সংক্রান্ত মামলায় আর্থিক লেনদেনের তদন্তে নতুন তথ্য মিলেছে।
  • তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল অঙ্কের অর্থের হদিস মিলছে না।
  • সন্দেহজনক একাধিক ‘ভুয়ো সংস্থা’র মাধ্যমে অর্থ ঘোরানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • ব্যাংক নথি, হিসাবপত্র ও সংস্থার আর্থিক লেনদেন খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
  • আরও কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে চলা তদন্তে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আরও জটিল আকার নিচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন কিছু আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে, যার সঙ্গে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন স্তরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশের এখনও কোনও স্পষ্ট হদিস মেলেনি।

তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকটি সন্দেহভাজন সংস্থা কার্যত কাগজে-কলমে থাকলেও তাদের বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যকলাপের প্রমাণ খুবই সীমিত। এই ধরনের সংস্থাকে সামনে রেখে অর্থ স্থানান্তর বা লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নিবন্ধন, কর সংক্রান্ত নথি, ব্যাংক হিসাব এবং পরিচালক-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ চলছে।

তদন্তকারীদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নয়, জমি কেনাবেচা, বেনামি সম্পত্তি এবং কালো টাকা সাদা করার সম্ভাব্য পথগুলিও এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। সেই কারণেই আর্থিক নথির পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই মামলার সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ৩০-রও বেশি জনপ্রতিনিধির সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ, একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, বেনামি সম্পত্তি এবং জমি সংক্রান্ত অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কারও বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তে জোর দেওয়া হচ্ছে অর্থের উৎস, অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা সেই লেনদেনে যুক্ত ছিলেন—এই তিনটি বিষয়ে। তদন্তকারীরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংস্থাগুলির হিসাবপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সম্পর্ক মিলিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি সংগ্রহ করা হবে বলেও জানা গেছে।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, কোনও সংস্থা প্রকৃত ব্যবসা না করেও যদি শুধুমাত্র অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা অর্থ পাচার বা আর্থিক জালিয়াতির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।

এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই তদন্ত ঘিরে চর্চা তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সমস্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।