স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, হুইপ জারি উদ্ধব সেনার; ‘ঘোড়া কেনাবেচার’ অভিযোগ সঞ্জয় রাউতের
হাইলাইটস
- উদ্ধব ঠাকরের শিবিরে বড় ধাক্কা, ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি।
- বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইতে পারেন।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে হুইপ জারি করেছে উদ্ধবপন্থী শিবির।
- সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, বিজেপি ও শিন্ডে শিবিরের মদতে চলছে ‘হর্স-ট্রেডিং’।
- মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও শিবসেনার উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন সংঘাতের সূচনা।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের এক বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই এবার লোকসভায় উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র সাংসদদের মধ্যেই বড় ভাঙনের খবর সামনে এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, দলের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ৬ জন উদ্ধবের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান জানাতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁরা আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্ধব শিবির তড়িঘড়ি সমস্ত সাংসদের উদ্দেশে হুইপ জারি করেছে, যাতে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
উদ্ধব শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ Sanjay Raut এই ঘটনাকে সরাসরি ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ বা রাজনৈতিক কেনাবেচার ফল বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের সাংসদদের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অর্থ, ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের দলত্যাগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
রাউত বলেন, শিবসেনাকে দুর্বল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিকল্পিত অভিযান চলছে। প্রথমে বিধায়কদের ভাঙানো হয়েছে, পরে সংগঠন দখল করা হয়েছে, আর এখন সাংসদদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক রাজনীতির বদলে এখন সংখ্যার খেলা এবং ক্ষমতার প্রয়োজনে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই সংকটের রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। ২০২২ সালে Eknath Shinde-র নেতৃত্বে শিবসেনার বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন পরে শিন্ডে গোষ্ঠীকেই ‘আসল’ শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘ধনুক-বাণ’ প্রতীকও তাদের হাতে তুলে দেয়। সেই আঘাতের পর উদ্ধব ঠাকরে নতুন প্রতীক ও নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু লোকসভা স্তরেও যদি বড় ধরনের ভাঙন ঘটে, তাহলে উদ্ধবের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন এবং ভবিষ্যতের বিধানসভা সমীকরণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। একদিকে উদ্ধব শিবিরের সীমিত সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনা—এই দুইয়ের মধ্যে অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বেশি নিরাপদ বলে মনে করছেন। ফলে দলের ভিতরে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই জমা হচ্ছিল।
তবে উদ্ধব শিবির এখনও প্রকাশ্যে লড়াই ছাড়তে রাজি নয়। দলের নেতারা দাবি করছেন, অধিকাংশ সাংসদ এখনও উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেই রয়েছেন এবং বিদ্রোহের খবরকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, শিবসেনার আদর্শ, বালাসাহেব ঠাকরের উত্তরাধিকার এবং কর্মীদের আবেগ এখনও উদ্ধবের পাশেই রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের যুক্তি, রাজনীতিতে টিকে থাকতে গেলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। বিরোধী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থেকে গেলে সাংসদদের এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। তাই নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়াই তাঁদের কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে।
ফলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও এক নাটকীয় অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০২২ সালের বিধায়ক বিদ্রোহের পর এবার সাংসদদের সম্ভাব্য দলত্যাগ শিবসেনার অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরবর্তী অধ্যায়।