হাইলাইটস:
- বুধবার ট্রেনে করে রাজস্থানের কোটা যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
- ছাত্রছাত্রী, কোচিং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।
- শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য, পরীক্ষার চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে সামনে রেখে শুরু হবে ধারাবাহিক প্রচারাভিযান।
- কংগ্রেসের লক্ষ্য, যুব সমাজের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
বাংলাস্ফিয়ার: দেশের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এবার শিক্ষাকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করে তুলতে চাইছে কংগ্রেস। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই বুধবার ট্রেনে চেপে রাজস্থানের কোটা যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশের বৃহত্তম কোচিং হাব হিসেবে পরিচিত কোটা থেকেই তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক চাপ নিয়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের সূচনা করতে চলেছেন।
কোটা শুধু একটি শহর নয়, ভারতের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার এক প্রতীক। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আইআইটি, নিট এবং অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এখানে আসেন। কিন্তু একই সঙ্গে আত্মহত্যা, মানসিক চাপ, বিপুল অর্থব্যয় এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের মতে, এই প্রশ্নগুলিকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার সময় এসেছে।
রাহুল গান্ধীর সফরের অন্যতম লক্ষ্য হল ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি কোচিং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শিক্ষার সুযোগ কি সবার জন্য সমান? গ্রাম ও শহরের ছাত্রদের মধ্যে ব্যবধান কতটা? পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা কি তরুণ প্রজন্মের উপর অসহনীয় চাপ তৈরি করছে?— এই প্রশ্নগুলিই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে বিরোধীরা বারবার কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে। রাহুল গান্ধীও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে দেশের যুব সমাজকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, কোটি কোটি তরুণ চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন, অথচ সরকার তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ।
কংগ্রেসের নতুন প্রচারাভিযানে শিক্ষাকে শুধুমাত্র পরীক্ষার প্রশ্ন হিসেবে নয়, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরা হবে। দলের মতে, উন্নত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ আর্থিক সামর্থ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী পিছিয়ে পড়ছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই গড়ে তুলতেই কোটা থেকে প্রচার শুরু করা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর ট্রেনযাত্রারও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। অতীতে ভারত জোড়ো যাত্রা এবং বিভিন্ন পদযাত্রার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। এবার ট্রেনে সফরের মাধ্যমে তিনি ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন বাস্তবতার কাছাকাছি থাকার বার্তা দিতে চাইছেন বলে কংগ্রেসের নেতাদের দাবি। দলের মতে, এই সফর কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সভা নয়; বরং শোনার এবং বোঝার উদ্যোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুব সমাজ আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। বেকারত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ— এসব প্রশ্ন তরুণ ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। কংগ্রেস সেই অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে।
কোটা সফরের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় শহর এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক অঞ্চলে অনুরূপ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে কংগ্রেস একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘শিক্ষা সংলাপ’ শুরু করতে চায়, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও দাবি সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হবে।
রাজনৈতিকভাবে দেখলে, এটি শুধু একটি সফর নয়। ২০২৬-পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। আর সেই প্রচেষ্টার প্রথম স্টেশন— কোটা।