Home খবর ছাত্রদের কণ্ঠস্বরকে হাতিয়ার করে কোটা থেকে রাহুলের দেশজোড়া অভিযান

ছাত্রদের কণ্ঠস্বরকে হাতিয়ার করে কোটা থেকে রাহুলের দেশজোড়া অভিযান

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
12 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • রাজস্থানের কোটা থেকে ছাত্র-যুবকদের নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করলেন বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi।
  • সভায় উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিপ্রার্থীরা।
  • প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগে বিলম্ব এবং বেকারত্বকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল।
  • কোচিং নগরী কোটাকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে ছাত্রদের মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ-অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
  • শিক্ষাব্যবস্থাকে “রিজেকশন সিস্টেম” ও “এক্সটরশন মেশিন” বলে অভিহিত করেন কংগ্রেস নেতা।

রাজস্থানের কোটা—যে শহরকে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার রাজধানী বলা হয়—সেখান থেকেই বুধবার দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ছাত্র, অভিভাবক, কোচিংপড়ুয়া এবং চাকরিপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশকে কংগ্রেস “ছাত্রদের কণ্ঠস্বর” বা “ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ” কর্মসূচির সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছে।

সমাবেশে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে এখন অনিশ্চয়তা ও দুর্নীতির ভয় বড় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই কংগ্রেসের নতুন প্রচারাভিযান।

রাহুল বলেন, ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এমন এক কাঠামো তৈরি করেছে যেখানে অধিকাংশ ছাত্রকে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর ভাষায়, এটি একটি “রিজেকশন সিস্টেম”, যা ছাত্রদের ওপর অসহনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, আইএএস বা কয়েকটি নির্দিষ্ট পেশার বাইরে ভাবার সুযোগও অনেক সময় তরুণদের দেওয়া হয় না।

কোটা দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার প্রতীক। প্রতিবছর লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রী এখানে এসে জেইই, নিট ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। সেই কারণেই এই শহরকে কর্মসূচির সূচনাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সভায় উপস্থিত বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ, কোচিংয়ের বিপুল খরচ এবং পরীক্ষার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন এমন এক “এক্সটরশন মেশিন”-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে ছাত্র ও তাঁদের পরিবার বিভিন্ন প্রবেশিকা ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে।

সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি। বিজেপি অভিযোগ করে, নিট পুনঃপরীক্ষার আগে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাত্রদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। বিজেপি মুখপাত্ররা রাহুলের সমালোচনা করে বলেন, পরীক্ষার সময় রাজনীতি না করে ছাত্রদের পড়াশোনায় মন দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, এটি রাজনৈতিক সভা নয়, বরং ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের বাস্তব সমস্যার প্ল্যাটফর্ম। দলটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, কোটা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা, নিয়োগ ও যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমত গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

কোটা সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, ২০২৬ সালের রাজনৈতিক লড়াইয়ে কংগ্রেস ছাত্র-যুব প্রশ্নকে অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চাইছে। আর সেই লড়াইয়ের সূচনায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি কংগ্রেসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles