হাইলাইটস
- অভিনেত্রী Preity Zinta-র ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) ও কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত।
- হাই কোর্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
- অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তাঁর ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচিতি বিকৃত করে বিভিন্ন ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে।
- আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত সুনাম ও মেধাস্বত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- এই মামলাকে ভারতে এআই-জনিত ব্যক্তিত্ব অধিকার সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে ব্যক্তিত্বের অধিকার ও মেধাস্বত্ব রক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল হাই কোর্ট। বলিউড অভিনেত্রী Preity Zinta-কে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিয়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনও ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাঁর ছবি, কণ্ঠস্বর, পরিচিতি বা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরি করা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
প্রীতি জিন্টার অভিযোগ, বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে তাঁর নামে এবং তাঁর চেহারা ব্যবহার করে এমন বহু ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে, যেগুলি তিনি তৈরি করেননি বা অনুমোদনও দেননি। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এই কনটেন্টগুলির কিছু তাঁর ভাবমূর্তি ও জনপরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে দর্শক টানার চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মামলায় অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন জনপরিচিত ব্যক্তির নাম, মুখাবয়ব, কণ্ঠস্বর এবং পরিচিতি তাঁর মূল্যবান বৌদ্ধিক সম্পদ ও ব্যক্তিত্বের অংশ। এগুলি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে তা শুধু ব্যক্তিত্বের অধিকারই লঙ্ঘন করে না, অনেক ক্ষেত্রে কপিরাইট ও বাণিজ্যিক স্বার্থেরও ক্ষতি করে।
আদালত প্রাথমিকভাবে এই যুক্তিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দিয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনই ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষার নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আনছে। বিশেষ করে এআই-সৃষ্ট ‘ডিপফেক’ বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের প্রসার উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিত্বের অধিকার সংক্রান্ত আইনি কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিপফেক, কৃত্রিম কণ্ঠস্বর এবং ডিজিটাল অবতার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই রায় শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয়, সুনাম ও মেধাস্বত্ব রক্ষার বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সংস্থা, কনটেন্ট নির্মাতা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।