Home খবর ভাবাচ্ছে বড় শহরের দূষণ

ভাবাচ্ছে বড় শহরের দূষণ

Authored By পার্বণ
147 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: জানুয়ারি মাসে পিএম ২.৫ (PM 2.5) দূষণের নিরিখে দেশের তৃতীয় দূষিত শহরের তকমা পেয়েছে কলকাতা। জানুয়ারি ২০২৬-এর এই সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক শহরে বায়ুর গুণমান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ছিল। ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (CREA)-এর নতুন গবেষণা থেকে জানা যায়, ভারতের প্রায় অর্ধেক শহরেই দূষণ নির্ধারিত জাতীয় মানের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। তথ্যানুসারে, ভারতের শহরগুলির মধ্যে কলকাতার স্থান ৩০তম। পিএম ২.৫-এ দূষণের গড় মাত্রা ছিল ৯২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার। যা আদতে জাতীয় মান (৬০ µg/m³)-এর থেকে অনেকটাই বেশি।

 

প্রতিবেশী হাওড়ার অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। সেখানে দূষণের গড় মাত্রা ছিল ৯৪ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার এবং জাতীয় স্তরে তার অবস্থান ২৮তম। এই পরিসংখ্যান কলকাতা ও হাওড়া সংলগ্ন মহানগরীয় অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের গভীর সংকটের কথাই বলছে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চল ও শহুরে বলয়গুলিতে একই রকম দূষণের চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর এবং হলদিয়ার মতো শহরগুলোতে পিএম ২.৫-এর মাত্রা জাতীয় মানদণ্ড অতিক্রম করেছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের হাল তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর, তবে সেখানেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত দৈনিক ১৫ মাইক্রোগ্রামের নিরাপদ সীমারেখা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সিআরইএ (CREA) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে ভারতের একটি শহরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চলতে পারেনি।

 

সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার বাসিন্দারা জানুয়ারি মাসে ৩ দিন অত্যন্ত খারাপ (ভেরি পুয়োর), ১২ দিন খারাপ (পুয়োর) এবং ১৬ দিন মাঝারি (মডারেট) মানের বায়ু সয়েছেন। পুরো মাসে এক দিনও বায়ুর গুণমান সন্তোষজনক (স্যাটিসফ্যাক্টরি) বা ভালো (গুড)-র শ্রেণিতে পৌঁছায়নি। হাওড়ার অবস্থাও একই। অন্য দিকে, আসানসোলে চার দিন ‘ভেরি পুয়োর’ বায়ু রেকর্ড করা হয়েছে। এটি সাম্প্রতিককালে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম খারাপ রেকর্ড। এই মাত্রার দূষণ শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এই চিরস্থায়ী দূষণ মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম’ (NCAP) সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছেন সিআরইএ-র ইন্ডিয়া অ্যানালিস্ট মনোজ কুমার। তিনি জানান, পিএম ১০-এর বদলে আসা পিএম ২.৫ অনুযায়ী সালফার-ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড (NO2) মত গ্যাসগুলির বাতাসে উপস্থিতির বিষয় অধিক সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পের জন্য কঠোর নির্গমন বিধি এবং আঞ্চলিক স্তরে বায়ু দূষণ মোকাবিলায় ‘এয়ারশেড-ভিত্তিক’ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles