হাইলাইটস
- প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে নতুন বিতর্ক।
- বিজেপি সাংসদদের অভিযোগ, খাড়গের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাহানিকর এবং সংসদের শিষ্টাচারবিরোধী।
- রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় বিষয়টি বিশেষাধিকার (Privileges) কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন।
- কমিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে।
- বিরোধীদের দাবি, সরকারের সমালোচনাকে দমন করতেই এই পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে ঘিরে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান Jagdeep Dhankhar বিষয়টি বিশেষাধিকার কমিটির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত খাড়গের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিজেপির অভিযোগ, ওই মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শাসক দলের একাধিক সদস্য রাজ্যসভায় এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যে পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সংসদের ভিতরে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, খাড়গে সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন মাত্র। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে কড়া রাজনৈতিক মন্তব্যকে বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে পরিণত করা হলে সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চাপে রাখতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চেয়ারম্যান কোনও অভিযোগকে গ্রহণযোগ্য মনে করলে তা বিশেষাধিকার কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। কমিটি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, নথি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে তদন্ত চালায়। পরে তারা একটি রিপোর্ট রাজ্যসভার সামনে পেশ করে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ফলে এই বিতর্ক কেবল সংসদীয় শিষ্টাচারের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
এখন নজর থাকবে বিশেষাধিকার কমিটির তদন্ত ও সুপারিশের দিকে। কমিটির রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে খাড়গের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, অথবা বিষয়টি শুধুই রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই থেকে যাবে। তবে ঘটনাটি সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকার-বিরোধী সংঘাতকে আরও উসকে দিল বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।