‘সতলুজ’ সরাতেই সরব শিখ কমিটি

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস: জি৫ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’।
- ছবিটি মানবাধিকার কর্মী জস্বন্ত সিং খালরার জীবন ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি (ডিএসজিএমসি)।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাইলাইটস:
- জি৫ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’।
- ছবিটি মানবাধিকার কর্মী জস্বন্ত সিং খালরার জীবন ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি (ডিএসজিএমসি)।
- জনসাধারণের জন্য বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা ও সেমিনারের ঘোষণা দিয়েছে কমিটি।
- ইতিহাস ও মানবাধিকার ইস্যুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
জি৫ থেকে হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত রাজনৈতিক নাট্যচিত্র ‘সতলুজ’। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। ছবিটি সরানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জনসাধারণের জন্য বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের ঘোষণা করেছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি (ডিএসজিএমসি)।
কমিটির অভিযোগ, এটি শুধু একটি সিনেমা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়; পাঞ্জাবের মানবাধিকার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসকে জনসমক্ষে আসতে না দেওয়ার চেষ্টা।
‘এ শুধু সিনেমা নয়’
ডিএসজিএমসির সভাপতি হরমিত সিং কালকা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সতলুজ’ কেবল একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়, বরং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এক মানুষের সাহসিকতার দলিল।
তাঁর কথায়, এমন একটি ছবি মানুষের নাগালের বাইরে রাখা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
কার গল্প বলছে ‘সতলুজ’?
ছবিটি নির্মিত হয়েছে মানবাধিকার কর্মী জস্বন্ত সিং খালরার জীবনকে কেন্দ্র করে।
নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় বহু মানুষের নিখোঁজ হওয়া এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে দাহ করার অভিযোগ সরকারি নথির ভিত্তিতে সামনে আনেন খালরা। তাঁর সেই অনুসন্ধান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
১৯৯৫ সালে তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁর হত্যাকাণ্ডে কয়েকজন পুলিশকর্মী দোষী সাব্যস্ত হন। মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা আজও শিখ সমাজের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
প্রকাশ্যে দেখানো হবে ছবি
ডিএসজিএমসি জানিয়েছে, ওটিটি থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়া হলেও দর্শকদের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দিতে তারা উদ্যোগ নেবে।
দিল্লির বিভিন্ন গুরুদ্বার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কেন্দ্রে প্রকাশ্য প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য আলোচনাচক্র ও সেমিনার-এরও পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জস্বন্ত সিং খালরার জীবন ও পাঞ্জাবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
জি৫ নীরব, বাড়ছে প্রশ্ন
এখনও পর্যন্ত জি৫ ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি। এই নীরবতাই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মানবাধিকার ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র দর্শকদের নাগালের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল।
নতুন করে আলোচনায় ‘সতলুজ’
হানি ত্রেহান পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। মুক্তির পর মানবাধিকার ইস্যুর সংবেদনশীল উপস্থাপনা এবং জস্বন্ত সিং খালরার চরিত্রে দিলজিতের অভিনয় বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল।
ডিএসজিএমসির উদ্যোগে প্রকাশ্য প্রদর্শনী শুরু হলে ছবিটি আবারও জনচর্চার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে সামনে আসছে একটি বড় প্রশ্ন—ঐতিহাসিক ও মানবাধিকারভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনের স্বাধীনতার সীমারেখা কোথায়?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



