লখনউয়ের গোমতী উৎসবের দুই পাঠজগৎ

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া পঞ্চম গোমতী বই উৎসব চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
- ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ১২০টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা দুই শতাধিক স্টল বসিয়েছে।
- প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রবেশ বিনামূল্যে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া পঞ্চম গোমতী বই উৎসব চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ১২০টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা দুই শতাধিক স্টল বসিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রবেশ বিনামূল্যে।
উৎসবে শিশুতোষ সাহিত্য, কল্পকাহিনি, ইতিহাস, ভাষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও গবেষণার বই রাখা হয়েছে। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের বইয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। লেখক-আলোচনা, নতুন বই প্রকাশ, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডও নয় দিনের কর্মসূচির অংশ।
এই মেলায় ছাপা বইয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ই-পুস্তকালয় দেখানো হচ্ছে। সরকারি এই ডিজিটাল গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা ও বিষয়ের তিন হাজারের বেশি ই-বই বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্মার্টফোনধারী তরুণ পাঠকের জন্য বইমেলাকে শুধু কেনাকাটার জায়গা না-রেখে ডিজিটাল পাঠে প্রবেশের দরজা করার চেষ্টা এটি।
তবে তিন হাজার বইয়ের সংখ্যা শুনলেই ডিজিটাল প্রবেশ সমান হয়ে যায় না। নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, উপযুক্ত যন্ত্র, নিবন্ধনের সহজতা এবং প্রতিবন্ধী পাঠকের জন্য পাঠযোগ্য বিন্যাস প্রয়োজন। কোনও বই অফলাইনে পড়া যায় কি না, ব্যক্তিগত উপাত্ত কতটা নেওয়া হয় এবং প্রকাশকের অধিকার কীভাবে মেটানো হয়—পাঠকের জানা উচিত।
লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজনের স্থান হওয়ায় শিক্ষার্থী ও গবেষকের সহজ প্রবেশ সম্ভব। কিন্তু শহরের দূরের এলাকা ও জেলার পাঠকের জন্য যাতায়াতের খরচ থাকে। বিনামূল্যের প্রবেশ মূল্যবান হলেও একটি পরিবারের মোট ব্যয় বাসভাড়া, খাবার এবং বই কেনার সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে।
সরকারি আয়োজনে বহুভাষিকতার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। তার বাস্তব পরীক্ষা হবে হিন্দি ও ইংরেজির বাইরে উর্দু, আওধি এবং অন্য ভারতীয় ভাষার প্রকাশক, লেখক ও আলোচনার উপস্থিতিতে। লখনউয়ের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে উর্দুর কেন্দ্রীয় ভূমিকা থাকায় ভাষার ভারসাম্য শুধু সংখ্যার বিষয় নয়।
বইমেলা প্রকাশকের সরাসরি বিক্রির সুযোগ, বিশেষত ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য। কিন্তু বড় স্টলের দৃশ্যমানতা ও সরকারি প্রকাশনার ছাড় ছোট স্বাধীন প্রকাশককে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে। স্টলভাড়া, বিক্রি এবং নতুন পাঠকসংযোগের তথ্য প্রকাশ করলে মেলার অর্থনৈতিক মূল্য বোঝা যাবে।
শিশুদের অনুষ্ঠানও শুধু বিনোদন নয়। গল্পপাঠের পরে বই ধার বা কেনার সুযোগ, বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার এবং শিক্ষক-সহায়তা না-থাকলে উৎসবের উৎসাহ দ্রুত মিলিয়ে যায়। এক দিনের ভিড়ের চেয়ে পরবর্তী মাসে স্থানীয় পাঠাগারের ব্যবহার বাড়ল কি না, তা ভালো ফলের মাপকাঠি।
বিশ্লেষণ: গোমতী উৎসব একই সঙ্গে কাগজ ও পর্দার পাঠজগৎ সামনে এনেছে। এ দুটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার প্রয়োজন নেই। ছাপা বইয়ের স্পর্শ ও সামাজিক মেলা নতুন পাঠক তৈরি করতে পারে; ডিজিটাল গ্রন্থাগার সেই পাঠকে বাড়ি ও ছোট শহরে বহন করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ঝুঁকি হল, বই নির্বাচন ও আলোচনায় সরকারের পছন্দ অতিরিক্ত প্রাধান্য পাওয়া। প্রকৃত সাহিত্যিক মেলা বিরোধী মত, ছোট ভাষা ও অস্বস্তিকর বইয়েরও জায়গা রাখে। দুই শতাধিক স্টল গোনা সহজ; কত নতুন পাঠক নিজের ভাষায় পছন্দের বই পেলেন, সেটিই উৎসবের অর্থপূর্ণ হিসাব।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



