সংস্কৃতি ও বিনোদন

কুয়াশা, রেলগাড়ি ও শাপলা: টেট মডার্নে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মোনে প্রদর্শনী

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: লন্ডনের টেট মডার্ন ২০২৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ক্লোদ মোনেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী করবে।
  • ‘মোনে: পেইন্টিং টাইম’ নামের প্রদর্শনীতে সময়ের প্রবাহ, প্রকৃতির পুনরাবৃত্ত চক্র এবং শিল্পায়নের দ্রুত পরিবর্তন তাঁর ছবিতে কীভাবে এসেছে, সেটি কেন্দ্রীয় বিষয়।
  • প্রদর্শনীতে মোনের শাপলার প্রায় ২০টি ছবি একত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: লন্ডনের টেট মডার্ন ২০২৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ক্লোদ মোনেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী করবে। ‘মোনে: পেইন্টিং টাইম’ নামের প্রদর্শনীতে সময়ের প্রবাহ, প্রকৃতির পুনরাবৃত্ত চক্র এবং শিল্পায়নের দ্রুত পরিবর্তন তাঁর ছবিতে কীভাবে এসেছে, সেটি কেন্দ্রীয় বিষয়।

প্রদর্শনীতে মোনের শাপলার প্রায় ২০টি ছবি একত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। টোকিওর আর্টিজন মিউজিয়াম, প্যারিসের মিউজে মারমোত্তঁ মোনে এবং লন্ডনের ন্যাশনাল গ্যালারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ ধার দেবে। একই বিষয় দিনের আলাদা আলো, ঋতু ও আবহাওয়ায় বারবার আঁকার মধ্যে সময়কে দৃশ্যমান করেছিলেন মোনে।

শুধু বাগান ও জল নয়, প্রদর্শনীর প্রথম অংশে ঊনবিংশ শতকের রেলগাড়ি ও দ্রুত নগরায়ন থাকবে। ১৮৭৭ সালে প্যারিসের গার সাঁ-লাজারে মোনে ধোঁয়া, বাষ্প, লোহার ছাদ ও থেমে থাকা ট্রেন এঁকেছিলেন। প্রকৃতি বনাম প্রযুক্তির সরল বিরোধের বদলে আধুনিকতার ক্ষণস্থায়ী আলো তাঁর কাজে কীভাবে ঢুকেছে, সেই সম্পর্ক দেখানো হবে।

শস্যের স্তূপ ও রুয়াঁ ক্যাথেড্রালের ধারাবাহিক ছবির জন্য আলাদা অংশ রয়েছে। একই বস্তু পুনরাবৃত্তি মানে অনুলিপি নয়; আলো ও দেখার সময় বদলালে বস্তুটিও ছবিতে বদলে যায়। প্রদর্শনীর কিউরেটর জুলিয়েট বিংহ্যাম দর্শকদের ধীরে দেখার সুযোগ দিতে চান—যা ভিড়ভরা জনপ্রিয় প্রদর্শনীতে বাস্তবায়ন করা সহজ নয়।

টেটের সংগ্রহে থাকা ১৮৯৪ সালের ‘দ্য সেইন অ্যাট পোর্ট-ভিলেজ’ ছবিতে বড় সংরক্ষণকাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে দেওয়া হলদে বার্নিশ সরানোর পরে কয়েক দশক ঢাকা থাকা আলোর উজ্জ্বলতা বেরিয়ে এসেছে বলে সংরক্ষণকারীরা জানিয়েছেন। প্রদর্শনীতে চূড়ান্ত ছবি ছাড়াও এই বস্তুগত গবেষণা দেখানো হবে।

মোনের সমকালীন প্রভাবের জন্যও একটি কক্ষ থাকবে। ফরাসি শিল্পী আঞ্জ লেচিয়ার ২০২০ সালের ভিডিওকাজ ‘দ’আপ্রে মোনে’ প্রদর্শিত হওয়ার কথা। এতে মোনেকে মৃত ঐতিহাসিক গুরু হিসেবে নয়, চলমান দৃশ্যভাষার উৎস হিসেবে পড়ার চেষ্টা থাকবে।

প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে মর্গ্যান স্ট্যানলি ও কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা সংস্থা অ্যানথ্রপিক রয়েছে। অ্যানথ্রপিক আগে সান ফ্রান্সিসকোর একটি মোনে প্রদর্শনীতে কথোপকথনভিত্তিক ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দিয়েছিল। টেট জানিয়েছে, লন্ডনের প্রদর্শনীতে তেমন আয়োজনের পরিকল্পনা নেই।

বিশ্লেষণ: প্রযুক্তি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা মোনের শিল্পায়ন-অনুসন্ধানের সঙ্গে আকর্ষণীয় সমকালীন প্রতিধ্বনি তৈরি করে, কিন্তু অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্নও আনে। জাদুঘরকে প্রকাশ করতে হবে পৃষ্ঠপোষক বিষয়বস্তু, দর্শকের উপাত্ত বা কিউরেটরীয় সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব রাখে কি না।

মোনের ছবিকে ক্যালেন্ডারের সুন্দর দৃশ্য হিসেবে দেখা সহজ। এই প্রদর্শনীর সম্ভাবনা অন্য জায়গায়—রেলগাড়ির গতি, কুয়াশা, আলো ও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে আধুনিক সময়ের অভিজ্ঞতা দেখানো। দর্শক সত্যিই ধীরে দেখতে পারলে, শাপলা আর কেবল শান্তির প্রতীক থাকবে না; তা সময় ধরে রাখার অসম্ভব প্রচেষ্টা হয়ে উঠবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles