হাইলাইটস:
- কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেন সিএসডিএসের শিক্ষকরা।
- তাঁদের দাবি, জরুরি অবস্থার মতো কঠিন সময়েও প্রতিষ্ঠানের অনুদান বন্ধ হয়নি।
- সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
- সরকারের কাছে অনুদান পুনর্বহাল এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লির প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান Centre for the Study of Developing Societies (সিএসডিএস)-এর একদল শিক্ষক ও গবেষক কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, স্বাধীন ভারতে বহু রাজনৈতিক পালাবদল এবং ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার মতো কঠিন সময়ও এই প্রতিষ্ঠান দেখেছে, কিন্তু কখনও সরকারি অনুদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। সেই ইতিহাসের প্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিকে তাঁরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন।
শিক্ষকদের বক্তব্য, সিএসডিএস কেবল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়; গত কয়েক দশক ধরে সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, গণতন্ত্র, নির্বাচন, জনমত এবং নীতি-গবেষণার ক্ষেত্রে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে হওয়া গবেষণা শুধু একাডেমিক মহলেই নয়, নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছে। তাই আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গবেষণা, ফেলোশিপ, গ্রন্থাগার এবং চলমান প্রকল্পগুলির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।
অধ্যাপকরা আরও বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের গবেষণার বিষয়বস্তু বা মতের সঙ্গে সরকারের মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে তা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্বাধীনতার জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াবে। তাঁদের মতে, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, আর সেই বৈচিত্র্য রক্ষা করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সিএসডিএসের শিক্ষকদের দাবি, অনুদান নিয়ে যদি কোনও প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে সরকার তা স্পষ্টভাবে জানাক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে রেখে দেওয়া উচিত নয়। তাঁরা দ্রুত অনুদান পুনর্বহাল এবং বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ অবস্থান ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বায়ত্তশাসন, সরকারি অর্থায়নের নীতি এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত, কারণ জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।