হাইলাইটস

  • মহাকুম্ভ চলাকালীন দর্শনার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তেই রামমন্দিরে অর্থ তছরুপের ঘটনাও বেড়ে যায়।
  • তদন্তে দেখা গেছে, এপ্রিলের শেষ থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নগদ অর্থ সরানোর চেষ্টা চলেছে।
  • এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা।
  • তদন্তকারীদের সন্দেহ, শুধু নিম্নস্তরের কর্মচারীদের পক্ষে এত বড় তছরুপ সম্ভব নয়; পুলিশ ও ব্যাংকের কিছু কর্মীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও নগদ অর্থ গণনার ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাস্ফিয়ার: অযোধ্যার রামমন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, মহাকুম্ভ উপলক্ষে মন্দিরে দর্শনার্থীর ঢল নামার পর থেকেই দানবাক্সে জমা হওয়া বিপুল নগদ অর্থকে লক্ষ্য করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভক্তের সংখ্যা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নগদ অর্থ গণনা ও সংরক্ষণের সময় বারবার টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার অল্প অল্প করে টাকা সরানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় আত্মসাতের অঙ্ক বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই তথ্য মিলতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে, যা মন্দিরে আসা দেশ-বিদেশের ভক্তদের দানের অংশ বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এখনও কত টাকা খোয়া গেছে, তার পূর্ণ হিসাব মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এত বড় আকারে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সরিয়ে নেওয়া শুধুমাত্র কয়েকজন কর্মচারীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই পুলিশ এখন মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নগদ অর্থ গণনার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করছে। কোনও স্তরে যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

রামমন্দিরে নিরাপত্তার জন্য বিপুল ব্যবস্থা ছিল। প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবল বাহিনীর আটটি কোম্পানি, কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ৫০০ সদস্য, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭৫০ সদস্য এবং রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরাও দায়িত্বে ছিলেন। তা সত্ত্বেও নগদ অর্থ গণনার ঘরে কার্যকর নজরদারির অভাব ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ যেখানে প্রতিদিন গণনা করা হয়, সেখানে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পেছনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি বাইরে আসে এবং অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেও মন্দিরে ভক্তসমাগমে বড় কোনও প্রভাব পড়েনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জুনের শেষ সপ্তাহ এবং জুলাইয়ের প্রথম দিনগুলিতেও প্রতিদিন প্রায় ৮৫ হাজার থেকে ১ লক্ষের বেশি ভক্ত রামমন্দিরে দর্শন করতে এসেছেন। অর্থাৎ চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও ভক্তদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।

মহাকুম্ভ চলাকালীন উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় পর্যটনের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। কোটি কোটি তীর্থযাত্রী প্রয়াগরাজের পাশাপাশি অযোধ্যাকেও তাঁদের ধর্মীয় সফরের অংশ করেন। এই বিপুল জনসমাগমের ফলে মন্দিরে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, আর সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য, এই অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে কেবল কয়েকজন কর্মচারী নাকি আরও বড় কোনও সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থ সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার পুরো ব্যবস্থায় কোথায় কোথায় দুর্বলতা ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও গ্রেফতার এবং নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের ইঙ্গিত।