- বারুইপুরে গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫।
- তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।
- শনিবার ঘটনাস্থলের কাছে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
- প্রশাসনের দাবি, দ্রুত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের গণপিটুনি, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক হিংসার ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। শুক্রবার আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসাত্মক ঘটনায় অংশগ্রহণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বহু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও কয়েক জনের ভূমিকা সন্দেহের তালিকায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে গ্রেফতারি অভিযান চালানো হবে।
ঘটনার পর থেকেই বারুইপুর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, যাতে নতুন করে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায় বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
এদিকে শনিবার ঘটনাস্থলের কাছেই একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের বক্তব্য, এলাকার দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশি সাড়া আরও ত্বরান্বিত করতে এই ফাঁড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ভবিষ্যতে অপরাধ বা অশান্তির খবর পেলেই যাতে দ্রুত বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষকর্তা জানান, শুধু নতুন ফাঁড়ি তৈরি নয়, এলাকায় নজরদারির জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, মূল অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত যেমন চলছে, তেমনই গণপিটুনি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেও সমান কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার দুটি পৃথক দিক রয়েছে। প্রথমটি হল নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার মূল অপরাধের তদন্ত। দ্বিতীয়টি হল সেই ঘটনার পর জনতার হিংসা, অভিযুক্তদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ঘটনাগুলির তদন্ত। দুটি তদন্তই সমান্তরালভাবে এগোচ্ছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই প্রমাণ সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের আশা, নতুন গ্রেফতার ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হিংসায় জড়িত আরও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে এলাকায় স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।