এটা তো স্ত্রী আর সতিনের ঝগড়া নয়, চীন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যা জানা জরুরি
- অন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘জিরো সাম গেম’ বা লাভ-ক্ষতির সমীকরণ হিসেবে বিবেচিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর…
- তিনি বলেন, “কাউকে পেছনে ফেলে বা অন্য কারও ক্ষতি সাধন করে অন্য একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার নীতি আমরা মেনে চলি না।
- নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” একই সাথে তিনি যোগ করেন, “কূটনীতি তো কোনো…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘জিরো সাম গেম’ বা লাভ-ক্ষতির সমীকরণ হিসেবে বিবেচিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, “কাউকে পেছনে ফেলে বা অন্য কারও ক্ষতি সাধন করে অন্য একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার নীতি আমরা মেনে চলি না। নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” একই সাথে তিনি যোগ করেন, “কূটনীতি তো কোনো পারিবারিক কলহ বা দ্বন্দ্ব নয়। এটি সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আর আমাদের দেশের স্বার্থ যেখানে নিহিত থাকবে, আমরা সেদিকেই অগ্রসর হবো।”
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, “আন্তর্জাতিক কূটনীতি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় না, এটি বাস্তবতার জমিনে দাঁড়িয়ে চলে। এক রাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক মানেই অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হওয়া নয়। সম্প্রতি আমাদের চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। একইভাবে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ভারতে সফর করলেও সেটি ফলপ্রসূ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “শীঘ্রই মার্কিন দূত বাংলাদেশে আসবেন, আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও সম্প্রতি আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক সখ্যতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের সাথে তো আর কেবল একটিমাত্র দেশের সম্পর্ক নয়, রয়েছে বহুমুখী বৈশ্বিক যোগাযোগ। ফলে এটি কোনো সংকীর্ণ পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থের জায়গা। আমাদের লক্ষ্য শুধুই দেশের কল্যাণ।” আসন্ন মার্কিন দূতের আগমন ঘিরে কোনো ধরনের চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি জানান, তারা বিন্দুমাত্র চাপ বোধ করছেন না।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “এটি নিছক একটি সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎ ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দ্বিপাক্ষিক দায়িত্বে আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সাক্ষাৎ। কোনো নির্দিষ্ট বা জটিল বিষয় নিয়ে এখানে গভীর আলোচনা হয়নি। তবে আগামীতে আমাদের সমস্ত বকেয়া ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা হবে। দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে আমরা উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছি।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



