Home Sports বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির পথে ফিফা? কী পরিকল্পনা, কেন বিতর্ক

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির পথে ফিফা? কী পরিকল্পনা, কেন বিতর্ক

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
15 views 4 minutes read
A+A-
Reset

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ। ফাইনালের শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সহিংস আচরণ নিয়ে এখনও কোনও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি ফিফা। কিন্তু এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিচালন কাঠামো বদলে দেওয়ার মতো এক নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল “বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গণতন্ত্রীকরণ”। তবে সমালোচকদের মতে, এটি আসলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা।

কী এই নতুন পরিকল্পনা?

ফিফা একটি নতুন সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (Fifa Forward Enterprise বা FFE)।এই সংস্থার অধীনে ফিফার সমস্ত বাণিজ্যিক অধিকার একত্রিত করা হবে। এর মধ্যে থাকবে—

  • সম্প্রচার অধিকার
  • স্পনসরশিপ
  • টিকিট বিক্রি
  • লাইসেন্সিং
  • ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক পরিচালনা

অর্থাৎ, ফিফার আয়-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা হবে।ফিফার দাবি, সংস্থাটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। তবে সংখ্যালঘু ও নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদার হিসেবে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি, সুশাসন এবং কৌশলগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এই বিনিয়োগকারীদের বেছে নেওয়া হবে।

তবে কি ফুটবলকে বিক্রি করে দিচ্ছে ফিফা?


সমালোচকদের অভিযোগ, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটিকে ধীরে ধীরে বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।ফিফা অবশ্য বলছে, কেবলমাত্র একটি ছোট, নিয়ন্ত্রণহীন অংশ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে।

এদিকে ফিফা নিশ্চিত করেছে যে সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন উদ্যোক্তা জোশুয়া কুশনার, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।এই তথ্য প্রকাশের পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

সদস্য দেশগুলির লাভ কী?

ফিফার বক্তব্য, বাইরের বিনিয়োগকারীরা সংস্থার মুনাফা থেকে লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। তারা চাইলে ভবিষ্যতে নিজেদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করতে পারবেন।

ফিফা সদস্য দেশগুলিকে বড় আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

সংস্থার দাবি—

  • আগ্রহী প্রতিটি সদস্য দেশ অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
  • বার্ষিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
  • দীর্ঘমেয়াদে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মোট ১,০০০ কোটি ডলারঅতিরিক্ত অর্থ বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অর্ধেকেরও বেশি দেশকে এতে আগ্রহ প্রকাশ করতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বের বহু ছোট ফুটবল সংস্থা আর্থিকভাবে ফিফার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সমর্থন পাওয়া ইনফান্তিনোর পক্ষে কঠিন হবে না।

ইনফান্তিনোর পুরনো নজির

এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম নয়।

২০১৮ সালে ইনফান্তিনো জাপানের বিনিয়োগ সংস্থা সফটব্যাঙ্কের সঙ্গে ক্লাব বিশ্বকাপের উন্নয়নের জন্য একটি বড় চুক্তির ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এবারও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনো ফিফা ছাড়ার পর ভবিষ্যতে এফএফই-র প্রধান নির্বাহী হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ফিফা অবশ্য বলছে, এ ধরনের যৌথ বাণিজ্যিক কাঠামো নতুন কিছু নয়। উয়েফাও তাদের প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির জন্য যৌথ উদ্যোগে কাজ করে।

এখন কী হতে পারে?

এই পরিকল্পনা ফিফার ভেতরেও অনেককে বিস্মিত করেছে।খবরে বলা হয়েছে, ফিফার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা ফিফা কাউন্সিলের অনেক সদস্যই আগে থেকে এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না এবং এর প্রস্তুতি প্রক্রিয়াতেও তাঁদের যুক্ত করা হয়নি।

ইতিমধ্যে উয়েফা তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছে, এই উদ্যোগ ফুটবলের জন্য এক বিপজ্জনক মোড়। ইউরোপের ফুটবল মহলে অসন্তোষ বাড়ছে এবং আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ঠেকাতে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন অংশীজন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles