খবর

দেশজুড়ে এক ঘড়ি: সরকারি-বাণিজ্যিক কাজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ইন্ডিয়ান স্ট‍্যান্ডার্ড টাইম

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: দেশের সমস্ত সরকারি, আইনি, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কাজে ভারতীয় মান সময় বা আইএসটি-কে অভিন্ন সময়-নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র।
  • উপভোক্তা বিষয়ক দফতর ২৭ আগস্ট ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) রুলস, ২০২৬’ বিজ্ঞাপিত করেছে।
  • সরকারি গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পরে নতুন বিধি কার্যকর হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: দেশের সমস্ত সরকারি, আইনি, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কাজে ভারতীয় মান সময় বা আইএসটি-কে অভিন্ন সময়-নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র। উপভোক্তা বিষয়ক দফতর ২৭ আগস্ট ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) রুলস, ২০২৬’ বিজ্ঞাপিত করেছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পরে নতুন বিধি কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সরকারি দফতর, ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পরিচালনাকারীদের নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে।

এই ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের কম্পিউটার, সার্ভার, লেনদেন ব্যবস্থা, নথি সংরক্ষণ এবং সময়নির্ভর পরিষেবায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার প্রসারের ফলে নির্ভুল ও সমন্বিত সময় ব্যবস্থার গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। ব্যাঙ্কিং, ডিজিটাল লেনদেন, শেয়ার বাজার, টেলিযোগাযোগ, রেল ও বিমান চলাচল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, তথ্যভান্ডার এবং সরকারি নথি—সব ক্ষেত্রেই ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ অপরিহার্য।

বর্তমানে একাধিক ব্যবস্থা বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ-নির্ভর সময়ের উৎস ব্যবহার করে। বিভিন্ন উৎসের মধ্যে সামান্যতম ফারাকও আর্থিক লেনদেনের ক্রম নির্ধারণ, আইনি প্রমাণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কিংবা সাইবার হামলা শনাক্তকরণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। নতুন বিধির লক্ষ্য, দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাকে একই নির্ভুল সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা।

ভারতীয় মান সময় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সিএসআইআর-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি। সমন্বিত বিশ্ব সময়ের তুলনায় ভারতীয় সময় পাঁচ ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট এগিয়ে। নতুন ব্যবস্থায় ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি, আঞ্চলিক মান পরীক্ষাগার, জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্র এবং ভারতের নিজস্ব উপগ্রহ-ভিত্তিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থা ‘নাবিক’-সহ অনুমোদিত ভারতীয় উৎস থেকে সময় সংগ্রহ ও প্রচার করা হবে।

টেলিযোগাযোগ, ব্যাঙ্কিং, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, প্রতিরক্ষা, সম্প্রচার এবং তথ্যকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অনুমোদিত উৎসের সঙ্গে তাদের সময়নির্ভর ব্যবস্থা মেলাতে হবে। মূল উৎস বিকল হলেও পরিষেবা যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখতে হবে। জ্যামিং, ভুয়ো সংকেত এবং সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও বিধিতে বলা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও দিকনির্ণয়ের মতো বিশেষ প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে অন্য সময়-মান ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। অন্য ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া আইএসটি-বহির্ভূত সময় প্রদর্শন বা নথিবদ্ধ করা যাবে না। বিধিভঙ্গের জন্য লিগ্যাল মেট্রোলজি আইনের অধীনে শাস্তির ব্যবস্থাও থাকছে।

‘এক দেশ, এক সময়’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেঙ্গালুরুর আঞ্চলিক পরীক্ষাগারে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত নির্ভুল সময় প্রচারের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বেঙ্গালুরু থেকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের চেন্নাই কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদে ভারতীয় সময় পৌঁছে দেওয়ার পরীক্ষাও সফল হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles