হাইলাইটস
- লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের আগে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি কংগ্রেসের।
- রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাল দল।
- সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান।
লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়ে কেন্দ্রের উদ্যোগের মধ্যেই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি তুলল কংগ্রেস। দলটির বক্তব্য, এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা যথেষ্ট নয়। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমেই ঐকমত্য গড়ে তোলা উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সরকারের বক্তব্য, জনসংখ্যার পরিবর্তন, ভবিষ্যতের জনগণনা এবং সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই বিভিন্ন দলের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেসের দাবি, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়; এর সঙ্গে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য জড়িয়ে রয়েছে। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
দলের একাধিক নেতা বলেন, দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কারণে তারা লোকসভায় আসন হারাতে পারে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেশি বৃদ্ধি পাওয়া রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়তে পারে। এই উদ্বেগের যথাযথ সমাধান প্রয়োজন।
কংগ্রেসের মতে, প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ডিলিমিটেশনের ভিত্তি, কোন জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করা হবে, রাজ্যগুলির স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হবে এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
দলের বক্তব্য, ডিলিমিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়। দেশের প্রতিটি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে এই প্রশ্ন জড়িত। তাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিকল্প নেই।
বিরোধী শিবিরের আরও কয়েকটি দলও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরল, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব একাধিকবার বলেছে, পরিবার পরিকল্পনায় সফল হওয়ার জন্য কোনও রাজ্য যেন সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব এবং ওড়িশার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সব রাজনৈতিক দলের মতামত সংগ্রহের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। সরকারের দাবি, ডিলিমিটেশন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব ডিলিমিটেশন কমিশনের। ১৯৭৬ সালে প্রথম এবং পরে ২০০১ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের উপর স্থগিতাদেশ বাড়ানো হয়, যাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলি প্রতিনিধিত্ব হারানোর আশঙ্কায় না পড়ে। সেই স্থগিতাদেশের পরবর্তী পর্যায়কে ঘিরেই বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়েছে।