খবর

কুনো থেকে গান্ধীসাগরে নতুন সঙ্গিনী

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রদেশের গান্ধীসাগর অভয়ারণ্যে ২০ সেপ্টেম্বর তিন বছরের একটি স্ত্রী চিতাকে মুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।
  • কুনো জাতীয় উদ্যান থেকে এনে প্রথমে সংরক্ষিত খাঁচাবেষ্টিত এলাকায় রাখা হয়েছে তাকে।
  • এর ফলে গান্ধীসাগরে চিতার সংখ্যা বেড়ে চার—দুই পুরুষ ও দুই স্ত্রী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রদেশের গান্ধীসাগর অভয়ারণ্যে ২০ সেপ্টেম্বর তিন বছরের একটি স্ত্রী চিতাকে মুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। পরিচিতি নম্বর সিসিবি–২। কুনো জাতীয় উদ্যান থেকে এনে প্রথমে সংরক্ষিত খাঁচাবেষ্টিত এলাকায় রাখা হয়েছে তাকে। এর ফলে গান্ধীসাগরে চিতার সংখ্যা বেড়ে চার—দুই পুরুষ ও দুই স্ত্রী। ভারতের দ্বিতীয় চিতা-আবাস হিসেবে এই অরণ্যের পরীক্ষাটি তাই শুধু নতুন প্রাণী যোগ করার নয়; দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রজননক্ষম দল গড়ে ওঠে কি না, সেটিই পরবর্তী লক্ষ্য।

সিসিবি–২ ভারতে জন্মানো চিতা নয়; আফ্রিকা থেকে আনার পরে কুনোয় রাখা হয়েছিল। পরিবহণের আগে তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে বলে বন দপ্তর জানিয়েছে। নতুন জায়গায় প্রথমেই উন্মুক্ত অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পরিবেশ, শিকার ও অন্য চিতার উপস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়ার কথা। এপ্রিল ২০২৫-এ পাৱক ও প্রভাস নামে দুই পুরুষ চিতাকে গান্ধীসাগরে এনে এই দ্বিতীয় কেন্দ্রের সূচনা হয়েছিল; পরে একটি স্ত্রী চিতা যোগ হয়।

স্থানান্তরের দু’দিন আগে কুনো থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে। ভারতেই জন্মানো স্ত্রী চিতা কেজিপি–১২ চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। দেশে জন্মানো চিতার আবার মা হওয়া প্রকল্পটির প্রজন্মান্তরের প্রথম বড় লক্ষণগুলির একটি। ওই জন্মের পরে এবং গান্ধীসাগরের স্থানান্তর মিলিয়ে দেশে চিতার মোট সংখ্যা ৫৬ বলে মধ্যপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে। সংখ্যাটিতে প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর ও সদ্যোজাত শাবক সবাই আছে; তাই ৫৬টি সমানভাবে স্বাধীন ও প্রজননক্ষম প্রাণী—এমন ব্যাখ্যা ঠিক নয়।

ভারতে এশীয় চিতা বিলুপ্ত ঘোষিত হওয়ার বহু দশক পরে ২০২২ সালে নামিবিয়া এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা এনে প্রকল্প শুরু হয়। প্রথম বছরগুলিতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শাবকের মৃত্যু, রেডিয়ো কলারের নিচে সংক্রমণ, সংঘর্ষ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন শাবক জন্মেছে এবং কয়েকটি প্রাণী উন্মুক্ত অরণ্যে শিকার করেছে। বর্তমান সংখ্যা তাই অগ্রগতির একটি সূচক, প্রকল্প সফল হয়ে গেছে—এমন চূড়ান্ত রায় নয়।

গান্ধীসাগর কুনোর বিকল্প আবাস হওয়ায় এক জায়গায় রোগ, আগুন, শিকার-ঘাটতি বা অন্য দুর্যোগে পুরো জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় কেন্দ্র মানেই ঝুঁকি অর্ধেক নয়। পর্যাপ্ত চিতল ও অন্য শিকার, জল, মানুষের বসতি ও গবাদি পশুর সঙ্গে সংঘাত, বেড়ার মান এবং প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষণদল—সবকিছু আলাদা করে নিশ্চিত করতে হবে। চিতা বৃহৎ এলাকা ব্যবহার করে; প্রশাসনিক সীমানা প্রাণীর চলাচল থামায় না।

স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও কেবল ক্ষতিপূরণে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গবাদি পশু হারালে দ্রুত অর্থপ্রদান, বনজ সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম, পর্যটনের আয় এবং কোনও চিতা বাইরে গেলে সতর্কতার ব্যবস্থা স্পষ্ট হওয়া দরকার। সংরক্ষণে গ্রামবাসীকে নিরাপত্তা-ঝুঁকি বহনকারী আর পর্যটককে লাভের একমাত্র অংশীদার করলে সংঘাত বাড়বে। দ্বিতীয় আবাসের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তাই প্রাণিবৈজ্ঞানিক উপযুক্ততারই অংশ। এই দুই পরীক্ষাকে আলাদা করা যায় না।

বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মুক্তি দেওয়ার ছবি প্রকল্পের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ, কিন্তু সংরক্ষণের কঠিন কাজটি পরে শুরু হয়। সিসিবি–২ সুস্থ আছে কি না, অন্য চিতার সঙ্গে প্রজনন হচ্ছে কি না, শিকার নিজে ধরতে পারছে কি না এবং মানুষের কাছে চলে আসছে কি না—নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। শুধু মোট সংখ্যা জানালে মৃত্যু, জন্ম ও স্থানান্তরের বাস্তব ভারসাম্য বোঝা যায় না।

কেজিপি–১২-এর চার শাবক আশা বাড়ায়, তবে জন্ম ও বেঁচে থাকা আলাদা সাফল্য। প্রথম কয়েক মাসে শাবকের স্বাভাবিক মৃত্যুঝুঁকি বেশি; অতিরিক্ত মানবিক হস্তক্ষেপও ক্ষতিকর হতে পারে। একইভাবে আফ্রিকান চিতাকে ভারতে প্রতিষ্ঠা করা স্থানীয় তৃণভূমি, নেকড়ে, হায়না ও মানুষের প্রয়োজনের উপরে একক প্রজাতির প্রদর্শনী হয়ে উঠতে পারে না। গান্ধীসাগরের নতুন বাসিন্দার মূল্য শেষ পর্যন্ত তার ছবিতে নয়—একটি সুস্থ, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সহাবস্থানকারী জনসংখ্যা গড়ে ওঠায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles