Home খবর তিন রাত থমথমে ইরান, যুদ্ধের বদলে আলোচনায় ট্রাম্প

তিন রাত থমথমে ইরান, যুদ্ধের বদলে আলোচনায় ট্রাম্প

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালানো বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা তৃতীয় রাতেও কোনও হামলা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এরই মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।

হাইলাইটস

  • টানা তিন রাত ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
  • মার্কিন সামরিক কর্তাদের মতে, বর্তমান অভিযানের কার্যকারিতা প্রায় সীমায় পৌঁছেছে।
  • ইরানও মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে।
  • মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
  • যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম।

সামরিক অভিযান কি থামছে?

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ সামরিক কর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বর্তমান বোমাবর্ষণ অভিযানের কার্যকারিতা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। হামলার জন্য নির্ধারিত অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ইতিমধ্যেই ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে তাঁদের মূল্যায়ন।

নতুন করে বড়সড় স্থলযুদ্ধ শুরু না হলে একই ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ায় বিশেষ কৌশলগত লাভ নেই বলেই মনে করছে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব। এই পরামর্শের পরই ট্রাম্প নতুন হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সূত্রের দাবি।

ইরানও জানিয়েছে, আপাতত মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ রেখেছে তারা। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বলেন, মার্কিন হামলা থেমে যাওয়ার পর তাঁদের প্রতিশোধমূলক অভিযানও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে একইসঙ্গে তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সুস্পষ্ট কৌশল নেই এবং ওয়াশিংটন এখন ‘কৌশলগত সিদ্ধান্তহীনতা’র মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের সামনে এখন দুই পথ

হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ট্রাম্প সামরিক বিকল্প পুরোপুরি খোলা রাখলেও আপাতত আলোচনার পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান এখন আগের তুলনায় আলোচনাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট কোনও বিকল্পই পুরোপুরি বাতিল করেননি। অর্থাৎ কূটনৈতিক দরজা খোলা থাকলেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও এখনও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলেও ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের আগে তাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন সামরিক কর্তারা।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে নজর

এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে বরাবরই সরব নেতানিয়াহু।

ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সাফল্য দেখানো তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরান ও ওমানের কূটনীতিকদের মধ্যে রবিবারও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ফের পুরোপুরি চালু করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছিল। তবে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমা এবং আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গত কয়েক দিনে তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গিয়েছে।

পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা

নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের আগে পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা বেড়েছে। একটি প্যালেস্টাইনি গ্রামে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার প্যালেস্টাইনি এবং দুই ইজরায়েলি নিহত হওয়ার পর সেখানে বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইজরায়েলি বাহিনী।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এ নিয়ে লন্ডনে চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, আপাতত ইরান-আমেরিকা সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে চলছে সামরিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে জোরদার হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। ফলে সাময়িক বিরতি স্থায়ী সমঝোতার পথে এগোবে, নাকি নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বলবে—সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles