Home International অভিবাসনে ট্রাম্পের নতুন কড়াকড়ি

অভিবাসনে ট্রাম্পের নতুন কড়াকড়ি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
12 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন নির্বাহী নির্দেশে সই ট্রাম্পের।
  • ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রুখতে পর্যটক ভিসার যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ।
  • বৈধ এইচ-১বি ও অন্যান্য কর্মভিসাধারীদের সন্তানের নাগরিকত্বে আপাতত কোনও পরিবর্তন নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আনতে দুটি নতুন নির্বাহী নির্দেশে সই করেছেন। একটি নির্দেশে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যটিতে শুধুমাত্র সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বা তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রুখতে ভিসা যাচাই আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে।

এই ঘোষণার পর ভারতীয় এনআরআই এবং এইচ-১বি-সহ বিভিন্ন বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারে কোনও পরিবর্তন আসেনি।

কী রয়েছে নতুন নির্দেশে?

৬ অগস্ট জারি হওয়া প্রথম নির্বাহী নির্দেশে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিদেশি শক্তির এজেন্ট, বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য, শত্রু দেশের নাগরিক এবং প্রতারণার মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় নির্দেশের লক্ষ্য ‘বার্থ ট্যুরিজম’। অর্থাৎ, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পর্যটক ভিসায় দেশটিতে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে ভিসা যাচাই আরও কঠোর করা হবে।

নির্দেশে সই করার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস এই পদক্ষেপগুলি সংবিধানসম্মত।

আইনি অবস্থান কী?

বর্তমানে মার্কিন আইনে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

চলতি বছরের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের আগের একটি নির্বাহী নির্দেশ কার্যকর হতে দেয়নি। আদালত জানায়, মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (Fourteenth Amendment) অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকবে। খুব সীমিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই অধিকার কেবল নির্বাহী নির্দেশের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব নয়।

ফলে নতুন নির্দেশ জারি হলেও আদালতের বিদ্যমান অবস্থানের কারণে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভারতীয়দের উপর কী প্রভাব?

বৈধ এইচ-১বি, এল-১, ও-১ বা অন্যান্য বৈধ কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে আপাতত কোনও পরিবর্তন নেই। এইচ-১বি ভিসাধারী দম্পতির সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালে, বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী সে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হওয়ার অধিকার পাবে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাংবিধানিক অধিকার পরিবর্তন করতে গেলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

পর্যটক ভিসায় কী বদল হতে পারে?

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বি-১/বি-২ (ব্যবসা বা পর্যটক) ভিসার আবেদনকারীদের উপর।

মার্কিন কনস্যুলার অফিসারদের যদি মনে হয়, আবেদনকারীর মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসব, তাহলে অতিরিক্ত নথি চাওয়া, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ বা আরও কঠোর যাচাইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রবেশের সময়ও বাড়তি প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

আইনি চ্যালেঞ্জ

মার্কিন নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নতুন নির্বাহী নির্দেশ সংবিধানবিরোধী বলে তাদের মত। সংগঠনটি আদালতে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার কথাও ঘোষণা করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন নির্দেশ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের সন্তানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বদলাচ্ছে না। তবে পর্যটক ভিসার আবেদন এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। নির্দেশগুলির ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মার্কিন আদালতের রায়ের উপর।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles