হাইলাইটস
- বেআইনি পোস্ট সরাতে সোশ্যাল মিডিয়াকে দেওয়া হবে মাত্র ৩ ঘণ্টা।
- এআই-তৈরি কনটেন্টে বাধ্যতামূলক লেবেল ও ট্রেসযোগ্য মেটাডেটা।
- ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ও প্রতারণা ঠেকাতে আইটি বিধিতে সংশোধন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রুখতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিধিতে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) জানিয়েছে, সরকার বা আদালতের বৈধ নির্দেশ পাওয়ার পর কোনও সামাজিক মাধ্যম বা অন্য ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থাকে আর ৩৬ ঘণ্টা নয়, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে।
সরকারের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়ো খবর, ডিপফেক এবং এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার উপর নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বেআইনি বিষয়বস্তু অপসারণের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
কী বদল হল?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকার বা আদালতের বৈধ নির্দেশ পাওয়ার পর ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম-সহ সব সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কনটেন্ট সরাতে হবে। আগে এই কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা সময় দেওয়া হতো।
এছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিয়ো বা অন্য ডিজিটাল কনটেন্টের ক্ষেত্রেও নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
এআই কনটেন্টে নতুন নিয়ম
আইনসঙ্গতভাবে প্রকাশযোগ্য এআই-নির্মিত কনটেন্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি। পাশাপাশি এমন ট্রেসযোগ্য মেটাডেটা রাখতে হবে, যাতে কনটেন্টের উৎস এবং তৈরির প্রাথমিক তথ্য শনাক্ত করা যায়।
সরকারের মতে, এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কনটেন্ট বাস্তব এবং কোনটি এআই-নির্মিত। একই সঙ্গে পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, নির্বাচনী বিভ্রান্তি এবং ডিপফেকের অপব্যবহার রোধ করাও সহজ হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক নেতা, অভিনেতা, শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখ ও কণ্ঠস্বর নকল করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার ফলে ব্যক্তিগত সম্মানহানি, ভুয়ো প্রচার এবং সামাজিক বিভ্রান্তির আশঙ্কা বেড়েছে। কেন্দ্রের দাবি, নতুন নিয়মের লক্ষ্য এই ধরনের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহি বাড়ানো।
বিতর্কও রয়েছে
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে কোনও কনটেন্ট বেআইনি কি না, তা নির্ধারণ করা সবসময় সহজ নয়। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলি অনেক ক্ষেত্রে বৈধ কনটেন্টও সরিয়ে দিতে পারে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিধি শুধুমাত্র সরকার বা আদালতের বৈধ নির্দেশের ভিত্তিতেই কার্যকর হবে। তাই ইচ্ছামতো কনটেন্ট সরানোর সুযোগ নেই। সরকারের দাবি, ভুয়ো তথ্য, ঘৃণাত্মক প্রচার, প্রতারণা এবং ডিপফেকের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই নতুন ধরনের ঝুঁকিও সামনে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জবাবদিহি বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করাই এই সংশোধিত আইটি বিধির মূল লক্ষ্য বলে কেন্দ্রের দাবি।