রাজপরিবারের সন্তান মানেই বিলাসবহুল জীবন—এমন ধারণাই সাধারণত সবার। কিন্তু পাতৌদির নবাব ও ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলি খান পাতৌদির (টাইগার পাতৌদি) পরিবারে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ঐশ্বর্যের অভাব ছিল না, কিন্তু অপচয়েরও কোনও জায়গা ছিল না। সেই শিক্ষাই ছোটবেলা থেকে পেয়েছিলেন সইফ আলি খান, সোহা আলি খান ও সাবা পাতৌদি।
সম্প্রতি নেহা ধূপিয়া ও অঙ্গদ বেদির ইউটিউব শো-তে হাজির হয়ে শৈশবের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন সোহা ও সাবা। সেখানেই উঠে আসে তাঁদের বাবার অবাক করা মিতব্যয়িতার গল্প।
সোহা জানান, রাজপরিবারে জন্ম হলেও তাঁদের কোনও দিন বিশেষ সুবিধা দিয়ে বড় করা হয়নি। বরং বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় মনসুর আলি খান হলুদ পোস্ট-ইট নোট লাগিয়ে রাখতেন, যাতে লেখা থাকত—‘ঘর থেকে বেরোনোর আগে আলো নিভিয়ে দাও।’ বিদ্যুতের বিল থেকে শুরু করে পেট্রোলের দাম—প্রতিটি খরচের হিসেবই তাঁর নখদর্পণে ছিল।
সবচেয়ে মজার ঘটনা ছিল বন্ধুদের বাড়ি যাওয়া নিয়ে। ছোটবেলায় বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে বাবার কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে হত, “না, পেট্রোল খুব দামী।” নেহা ধূপিয়া এই কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কারণ তখনকার পেট্রোলের দাম আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল। কিন্তু মনসুর আলি খানের কাছে অযথা খরচ কোনও দিনই গ্রহণযোগ্য ছিল না।
আড্ডায় উঠে আসে ভাইবোনদের ছোটবেলার আরও কিছু মজার স্মৃতি। সাবা জানান, তিনি ও সোহা পকেটমানি হিসেবে ১০০ টাকা করে পেতেন। সেই প্রসঙ্গে সোহা হেসে বলেন, “সইফ তো আমাদের কাছ থেকেই টাকা চুরি করত!”
দুই বোনের কথায়, ইংল্যান্ডে গেলে তাঁদের হাতে পাঁচ পাউন্ড করে তুলে দেওয়া হত। কিন্তু সেই টাকাও নাকি প্রায়ই ধার নিয়ে ফেলতেন সইফ।
সাবা আরও এক মজার কাহিনি শোনান। তাঁর দাবি, সইফ তাঁর মানিব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে পরে রাখিবন্ধনের উপহার হিসেবে সেই টাকাই আবার ফিরিয়ে দিতেন। সাবার কথায়, “আমি ভাবতাম আমার ৫০ টাকা গেল কোথায়! পরে বুঝেছি, সেই টাকাই উপহার হয়ে আবার আমার কাছেই ফিরে এসেছে।” কথাটি বলতেই হাসিতে ফেটে পড়েন দুই বোন।
এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে সোহা জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্মের সময় মনসুর আলি খান ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। ফলে তিনি বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতেন এবং মেয়ের সঙ্গে সময় দেওয়ার সুযোগ পেতেন।
সোহা আরও একটি স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। শর্মিলা ঠাকুর যখন Mississippi Masala ছবির শুটিংয়ের জন্য আমেরিকায় ছিলেন, তখন মা-কে রোজ চিঠি লিখতে চাইতেন তিনি। কিন্তু বাবা সপ্তাহে মাত্র একটি চিঠি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।
সোহার কথায়, “আব্বা বলেছিলেন, ‘সপ্তাহে একটা চিঠি লিখবে। রোজ রোজ আমেরিকায় চিঠি পাঠাব না। আমি রাজপুত্র হতে পারি, কিন্তু সেটাও খুব খরচের।’”
এই স্মৃতিগুলো যেন আরেকবার মনে করিয়ে দেয়—পাতৌদির নবাব পরিবারের ঐশ্বর্য থাকলেও মনসুর আলি খান সন্তানদের শিখিয়েছিলেন একেবারে ভিন্ন জীবনদর্শন। তাঁর কাছে আসল সম্পদ ছিল না রাজকীয় আড়ম্বর, বরং সংযম, মিতব্যয়িতা আর অর্থের মূল্য বোঝার শিক্ষা।