বাংলাস্ফিয়ার: ভারতের উৎপাদন শিল্পে মন্দার আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। সর্বশেষ এইচএসবিসি ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (PMI) অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের উৎপাদন শিল্পের কার্যকলাপ নেমে এসেছে ৪৬.০-এ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম সূচক এত নিচে নামল। এর ফলে শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পিএমআই সূচক কোনও দেশের উৎপাদন শিল্পের বর্তমান অবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এই সূচক ৫০-এর উপরে থাকলে উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। সেই হিসেবে ৪৬.০-এর সূচক স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে যে ভারতের উৎপাদন শিল্প এখন সংকোচনের পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ হল বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারেই অর্ডারের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহণ সংক্রান্ত সমস্যা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতাও উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। ফলে বহু সংস্থা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের উপরও। বহু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ করেছে, কোথাও কোথাও কর্মীসংখ্যাও কমানো হয়েছে। শিল্পোৎপাদনের গতি মন্থর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যায়, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোগব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন শিল্পের এই দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের প্রবৃদ্ধির হারও চাপে পড়তে পারে। উৎপাদন শিল্প দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি), রফতানি এবং কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ফলে এই খাতের ধারাবাহিক দুর্বলতা বিনিয়োগের পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর জন্য নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোয় আরও বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আর্থিক সহায়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও দক্ষ করে তোলার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে উৎপাদন খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
অতীতেও দেখা গেছে, উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের মন্দার সময় সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পিএমআই সূচক দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পের স্বাস্থ্য বোঝার একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে জুলাই মাসের এই পরিসংখ্যান নীতিনির্ধারকদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আগামী কয়েক মাসে উৎপাদন, নতুন অর্ডার, রফতানি এবং কর্মসংস্থানের প্রবণতা কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে এই মন্দা সাময়িক, নাকি আরও গভীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস। আপাতত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন পিএমআই ভারতের উৎপাদন শিল্পের সামনে কঠিন সময়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
10