International

টাকার জন্য দুঃস্বপ্ন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কিন্তু সেই বাড়তি রোজগারের লোভেই যদি রাতটা জীবনের শেষ রাত হয়ে যেতে বসে?
  • নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এ ঠিক সেই বিপদেই পড়ে ব্রায়ান।
  • চিকিৎসার সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে বেরোনো এক সাধারণ তরুণ, আর এক তুষারঝড়ের রাত—তার পরই শুরু বেঁচে থাকার লড়াই।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আর একটা কাজ করলেই বাড়তি টাকা। হিসাবটা সহজ ছিল। কিন্তু সেই বাড়তি রোজগারের লোভেই যদি রাতটা জীবনের শেষ রাত হয়ে যেতে বসে? নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এ ঠিক সেই বিপদেই পড়ে ব্রায়ান। চিকিৎসার সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে বেরোনো এক সাধারণ তরুণ, আর এক তুষারঝড়ের রাত—তার পরই শুরু বেঁচে থাকার লড়াই।

জ্যাক ক্রেগারের পরিচালনায় ছবিটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। প্রধান চরিত্রে অস্টিন আব্রামস। ‘বার্বেরিয়ান’ ও ‘ওয়েপনস’-এর পরিচালক হিসেবে পরিচিত ক্রেগারের এই ছবির চিত্রনাট্যও তিনি লিখেছেন শে হ্যাটেনের সঙ্গে। অভিনয়ে আব্রামস ছাড়াও রয়েছেন জ্যাক চেরি, কালি রেইস এবং পল ওয়াল্টার হাউজার।

সোনি পিকচার্সের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুযায়ী, এক ভয়াবহ রাতে ঘটনাচক্রে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে হয় ব্রায়ানকে। তিনি কোনও প্রশিক্ষিত যোদ্ধা নন, কোনও জম্বি-বধের বিশেষজ্ঞও নন। বরং সাধারণ একজন মানুষ—ভয় পান, বিরক্ত হন, বিপদ নিয়ে কথা বলেন। আর সেই কারণেই তাঁর দুর্ভোগটা দর্শকের কাছে আরও কাছের বলে মনে হতে পারে।

গল্পের শুরুটা বেশ সাদামাটা। শেষ মুহূর্তে বাড়তি পারিশ্রমিকের একটি কাজ নেয় ব্রায়ান। তুষারঝড়ের মধ্যে তাঁকে পৌঁছতে হয় র‌্যাকুন জেনারেল হাসপাতালে। কাজটা সেরে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর বোঝা যায়, পারিশ্রমিকটা যতই বাড়তি হোক, ঝুঁকিটা তার চেয়েও অনেক বেশি।

এর পর একের পর এক বিপদ। একটা দরজা খুললেই নতুন সমস্যা, একটা ধাপ পেরোলেই আরও কঠিন পরিস্থিতি। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সমালোচক শালিনী ল্যাঙ্গার আব্রামসের অভিনয়কে ছবিটির অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, বিপদের পর বিপদে এগিয়ে চলার বিন্যাসে ভিডিও গেম খেলার অভিজ্ঞতার মতো একটা ছন্দ রয়েছে। তুষার, আলো এবং ছায়ার ব্যবহারেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে শেষ দিকে হিংস্র দৃশ্যের বাড়াবাড়ি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-এর মূল্যায়নেও ভয় আর কালো রসিকতার মিশ্রণকে ছবিটির শক্তির জায়গা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মতে, আব্রামসের উপস্থিতি দর্শককে গল্পের সঙ্গে ধরে রাখে, যদিও শেষের দিকে কাহিনির গতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ছবির বেশ কিছু দিক প্রশংসা পেলেও, শেষ পর্যন্ত সব সমালোচক এক জায়গায় দাঁড়াননি।

নতুন ছবিটির আর একটি বড় পরিবর্তন এসেছে নায়ক নির্বাচনে। ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর পুরনো চলচ্চিত্রমালার কেন্দ্রে ছিলেন মিলা জোভোভিচের অ্যালিস—দক্ষ, প্রস্তুত এবং বিপদের মোকাবিলায় অভ্যস্ত। প্রথম ছবির গল্পে র‌্যাকুন সিটির নীচের গবেষণাকেন্দ্র, বিপজ্জনক ভাইরাস এবং সংক্রমণ ঠেকানোর অভিযান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একটি প্রশিক্ষিত দল ‘দ্য হাইভ’-এর ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে।

নতুন ছবিতে সেই পরিচিত দুনিয়ায় প্রবেশের দরজা বদলে গিয়েছে।

এ বার দর্শক এগোবেন এমন একজনের সঙ্গে, যিনি নিজেই জানেন না পরের মুহূর্তে কী অপেক্ষা করছে। ব্রায়ান কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি নন। তাই তিনি কী ভাবে বিপদ সামলাবেন, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন—তিনি আদৌ পরের কয়েক মিনিট পার করতে পারবেন কি না।

ভয়ের ছবিতে এই পার্থক্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নায়ক যদি সব জানেন, দর্শকের কৌতূহল থাকে তিনি কী ভাবে সমস্যার সমাধান করবেন। আর নায়ক যদি কিছুই না জানেন, তখন প্রশ্নটা দাঁড়ায়—পরের দরজার ওপাশে কী আছে?

ব্রায়ানের ভয়, বিরক্তি আর মাঝেমধ্যে হাস্যরস পরিস্থিতিটাকে একটানা গম্ভীরও হতে দেয় না। ফলে আতঙ্কের সঙ্গে কালো রসিকতার একটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রকাশিত সমালোচনাগুলিতেও ছবিটির এই মেজাজের উল্লেখ রয়েছে।

পুরনো অনুরাগীদের জন্য থাকছে পরিচিত নাম, সংক্রমণ এবং বিপদের আবহ। আবার নতুন দর্শকের জন্য তৈরি হয়েছে এক রাতের স্বতন্ত্র বেঁচে থাকার গল্প। পুরনো ছবির প্রতিটি ঘটনার সরাসরি ধারাবাহিকতা হিসেবেই নতুন কাহিনিকে দেখতে হবে—এমন দাবি নির্মাতাদের পরিচিতিতে নেই।

ফলে নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর আসল পরীক্ষা পুরনো চরিত্র কত জন ফিরল, সেই তালিকায় নয়। বরং পরিচিত ভয়কে কতটা নতুন চোখে দেখানো গেল, সেটাই বড় প্রশ্ন। আর তার কেন্দ্রে রয়েছেন এমন এক সাধারণ মানুষ, যিনি হয়তো ভাবছিলেন বাড়তি টাকার কাজটা স্রেফ আর একটা ডেলিভারি।

হাসপাতালে পৌঁছে বুঝলেন—ডেলিভারি নয়, এ তো জীবন-মরণের অর্ডার!

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles