Home খবর উত্তরপ্রদেশে ২৬ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক স্কুল বন্ধের অভিযোগ, বিজেপিকে নিশানা অখিলেশের

উত্তরপ্রদেশে ২৬ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক স্কুল বন্ধের অভিযোগ, বিজেপিকে নিশানা অখিলেশের

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
11 views 3 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২৬ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তাঁর দাবি, এই বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রাজ্যের শিক্ষানীতি এবং সরকারি স্কুলব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

অখিলেশ যাদবের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে লাখিমপুর খেরি জেলায়। সেখানে মোট ৭৫৮টি বিদ্যালয় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে তাঁর দাবি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সীতাপুর, যেখানে ৬৫০টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। প্রয়াগরাজে ৬৩৮টি এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের জেলা গোরক্ষপুরেও প্রায় ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, সরকার শিক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পরিবর্তে সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে একের পর এক বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে গ্রামের বহু ছাত্রছাত্রীকে দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যাতায়াতের সমস্যা এবং আর্থিক অসুবিধার কারণে শিশুদের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

অখিলেশ যাদব বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যতের ভিত্তি। সেই স্তরেই যদি বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়বে রাজ্যের সাক্ষরতার হার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের উপর। তাঁর অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয় বন্ধের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলিকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

এই অভিযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। সমাজবাদী পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, বিজেপি সরকার সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে বেসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহ দিচ্ছে। স্কুল বন্ধের এই পরিসংখ্যান সামনে এনে সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করতে চাইছে বিরোধী শিবির।

অন্যদিকে, সরকারপক্ষের যুক্তি সাধারণত ভিন্ন। শিক্ষা দফতরের তরফে অতীতে বলা হয়েছে, ছাত্রসংখ্যা অত্যন্ত কমে যাওয়া, একাধিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অল্প দূরত্ব এবং শিক্ষকদের আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয় একীভূত বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এর উদ্দেশ্য শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নত করা এবং উপলব্ধ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

তবে বিরোধীদের বক্তব্য, বিদ্যালয় একীভূত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবে বহু এলাকায় স্কুল বন্ধেরই সমার্থক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী ছোট শিশুদের জন্য দূরের বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা সহজ নয়। এর ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমতে পারে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

শিক্ষাবিদদের একাংশও মনে করেন, শুধুমাত্র ছাত্রসংখ্যার ভিত্তিতে বিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে তার সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। কারণ গ্রামীণ ভারতের বহু অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল শিক্ষার কেন্দ্র নয়, সামাজিক যোগাযোগ ও সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মধ্যাহ্নভোজন, টিকাকরণ, শিশুস্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও এই বিদ্যালয়গুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরপ্রদেশ দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার পরিকাঠামো দুর্বল হলে তার প্রভাব শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জাতীয় শিক্ষার মান, সাক্ষরতার হার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ২৬ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের অভিযোগকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিছক রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে কতগুলি বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে, কতগুলি একীভূত হয়েছে এবং তার ফলে ছাত্রছাত্রীদের উপর কী প্রভাব পড়েছে—এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles