Home খবর স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর অধ্যায় শেষ, সেপ্টেম্বরে আরও তেল তুলবে ওপেক+: বিশ্ববাজারে কী প্রভাব, ভারতের জন্য কতটা স্বস্তি?

স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর অধ্যায় শেষ, সেপ্টেম্বরে আরও তেল তুলবে ওপেক+: বিশ্ববাজারে কী প্রভাব, ভারতের জন্য কতটা স্বস্তি?

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
16 views 3 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী তেল উৎপাদক জোট ওপেক+ (OPEC+) সেপ্টেম্বরে আরও তেল উৎপাদনের ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে বাজারে দাম ধরে রাখতে যে স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর নীতি নেওয়া হয়েছিল, তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজার, জ্বালানির দাম এবং তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ওপেক+ হল সৌদি আরব, রাশিয়া-সহ ২৩টি তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট। ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই জোট অতিরিক্ত স্বেচ্ছা উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা। এখন সেই অতিরিক্ত কাটছাঁট তুলে নিয়ে উৎপাদন ধীরে ধীরে আগের স্তরে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন আরও এক লক্ষ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর ফলে স্বেচ্ছায় কমানো উৎপাদনের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার কার্যকর হবে। ওপেক+ জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর পড়তে পারে। যদি সরবরাহ বাড়ে এবং চাহিদা একই গতিতে না বাড়ে, তবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা নরম হতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সমুদ্রপথে পরিবহণের ঝুঁকি বা বড় অর্থনীতিগুলির প্রবৃদ্ধি—এসব বিষয়ও দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। ফলে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধির ভিত্তিতে দামের বড় পতনের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

ভারতের মতো দেশের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক। দেশের প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি আর্থিক ভারসাম্যের ওপর।

তেলের আন্তর্জাতিক দাম কম থাকলে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। যদিও ভারতে খুচরো জ্বালানির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর, বিপণন সংস্থার মূল্যনীতি এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই খুচরো দামে একই হারে তার প্রতিফলন ঘটবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ওপেক+ দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। একদিকে উৎপাদক দেশগুলি তেলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি যাতে বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখতে হয়। এই কারণেই জোটটি নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় বিশ্বজুড়ে শিল্প, পরিবহণ এবং বাণিজ্য কার্যত থমকে যাওয়ায় তেলের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে কমে গিয়েছিল। সেই সময় ওপেক+ ইতিহাসের অন্যতম বড় উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হয়। সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই প্রক্রিয়ারই শেষ ধাপ।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। একদিকে অনেক দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওপেক+ উৎপাদন বাড়ালেও ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি বদলালে জোট আবারও উৎপাদন নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরে উৎপাদন বৃদ্ধি ওপেক+-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত মোড়। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির কাছে এটি স্বস্তির বার্তা হতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে তেলের প্রকৃত দাম এবং তার প্রভাব।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles