International

মাঠের নীচে কনভেন্ট!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: রসকিল্ডের ফুটবল মাঠে এত দিন খেলোয়াড়েরা গোল খুঁজেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এবার খুঁজে পেলেন ইতিহাস!
  • ডেনমার্কের এই শহরে একটি ফুটবল মাঠের প্রায় এক মিটার নীচে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সেন্ট ক্লেয়ার কনভেন্টের প্রায় সম্পূর্ণ নকশার সন্ধান মিলেছে।
  • নতুন ভূগর্ভস্থ পার্কিং তৈরি করার আগে ভূমি-ভেদী রাডার দিয়ে সমীক্ষা চালাতেই ধরা পড়ে কক্ষ, স্তম্ভ, অলিন্দ এবং গির্জার ভিত্তির রেখা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: রসকিল্ডের ফুটবল মাঠে এত দিন খেলোয়াড়েরা গোল খুঁজেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এবার খুঁজে পেলেন ইতিহাস! ডেনমার্কের এই শহরে একটি ফুটবল মাঠের প্রায় এক মিটার নীচে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সেন্ট ক্লেয়ার কনভেন্টের প্রায় সম্পূর্ণ নকশার সন্ধান মিলেছে। নতুন ভূগর্ভস্থ পার্কিং তৈরি করার আগে ভূমি-ভেদী রাডার দিয়ে সমীক্ষা চালাতেই ধরা পড়ে কক্ষ, স্তম্ভ, অলিন্দ এবং গির্জার ভিত্তির রেখা।

প্রায় ৭৭০ বছরের পুরনো কনভেন্টটি একসময় প্রায় ২৩০ ফুট বাই ২৩০ ফুট এলাকা জুড়ে ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। ঐতিহাসিক নথি বলছে, সেখানকার প্রায় পাঁচ লাখ ইটও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এত ব্যাপক ভাবে ভবন সরিয়ে ফেলার পরও যে মাটির নীচে এতটা কাঠামো টিকে থাকতে পারে, তা প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছেও অপ্রত্যাশিত।

রসকিল্ডে মধ্যযুগের আরও চারটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু সেন্ট ক্লেয়ার কনভেন্টকে দীর্ঘদিন ‘হারিয়ে যাওয়া’ বলেই মনে করা হত। এমনকি সেই কারণে এটি সংরক্ষিত প্রাচীন স্মারকের তালিকাতেও ছিল না। ইতিহাসের মজাটা হল, আধুনিক ফুটবল মাঠটিই এত দিন অজান্তে কনভেন্টের অবশিষ্টাংশের উপর একটা বিশাল ঢাকনার কাজ করে এসেছে।

এখন খনন শুরু হলে মাটির নীচ থেকে আরও অনেক গল্প উঠে আসতে পারে। মাটির পাত্র, পশুর হাড়, ক্রুশ, জপমালা, তীর্থযাত্রীর চিহ্ন, চিরুনি, সূচ কিংবা লেখার সরঞ্জাম—সবই পাওয়া সম্ভব। কনভেন্ট শুধু প্রার্থনার জায়গা ছিল না; শিক্ষা এবং পাণ্ডুলিপি তৈরির সঙ্গেও এই ধরনের প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। জৈব নমুনা ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকলে সন্ন্যাসিনীদের খাবারের ধরন কিংবা তাঁরা কী ধরনের উদ্ভিদ চাষ করতেন, সেসব নিয়েও তথ্য মিলতে পারে।

সমাধির সন্ধানও মিলতে পারে। তবে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু প্রত্নতত্ত্বের থাকে না। আইন, নৈতিক অনুমতি এবং ধর্মীয় মর্যাদা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়। মৃতদের কেবল গবেষণার ‘নমুনা’ হিসেবে দেখা যাবে না। কনভেন্টের প্রথম দিকের সন্ন্যাসিনীরা স্ট্রাসবুর্গ থেকে এসেছিলেন বলে ধারণা রয়েছে; বস্তু ও সমাধির তথ্য সেই সময়ের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ছবিও স্পষ্ট করতে পারে।

এদিকে পার্কিং প্রকল্প পুরোপুরি থেমে যাবে, এমন নয়। নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক কাজ সমন্বয় করে এগোনোর পথ খোঁজা হচ্ছে। নকশা বদলানো, উদ্ধার-খনন করা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্টাংশকে সুরক্ষিত রেখে নির্মাণ করা—বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।

ঘটনাটির সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো এই একই জমির দুই জীবনে। উপরে আধুনিক ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়েরা গোলের জন্য দৌড়েছেন, আর প্রায় এক মিটার নীচে কয়েক শতাব্দী আগে মানুষ প্রার্থনা করেছেন, লিখেছেন এবং দৈনন্দিন জীবন কাটিয়েছেন। একই জায়গা, দুই সম্পূর্ণ আলাদা যুগ—শহরের ইতিহাস যেন মাটির নীচে স্তরে স্তরে সাজানো।

আর ভূমি-ভেদী রাডারের সুবিধাটাও এখানেই। কোদাল চালানোর আগেই বোঝা যায় মাটির নীচে কী আছে এবং কাঠামো কতটা বিস্তৃত। ফলে আবিষ্কার হলেই সবকিছু খুঁড়ে ফেলার তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।

পার্কিংয়ের জায়গা শহরের প্রয়োজন, কিন্তু ইতিহাসের জায়গা একবার নষ্ট হলে সেটি ফেরত পাওয়া যায় না। তাই আসল পরীক্ষা শুধু মাটির নীচে কী আছে, তা খুঁজে পাওয়া নয়—গাড়ি আর ইতিহাস, দু’জনের জন্যই জায়গা বের করা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles