‘টিকিট কিনেছেন, আমাদের নয়’: শরীর নিয়ে বিদ্রুপে ক্ষুব্ধ সলমন

যা জানা জরুরি
- মা হওয়ার পরে ক্যাটরিনা কইফের চেহারা নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সমাজমাধ্যমের বিদ্রুপকারীদের বিরুদ্ধে সরব হলেন সলমন খান।
- ‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক পর্বে তাঁর বক্তব্য, কোনও অভিনেতার কাজ পছন্দ না হলে সমালোচনা করা যায়; কিন্তু শরীর, বয়স বা পরিবারকে অপমান করার…
- নিজের বয়স নিয়েও কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন ষাট বছরের অভিনেতা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মা হওয়ার পরে ক্যাটরিনা কইফের চেহারা নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সমাজমাধ্যমের বিদ্রুপকারীদের বিরুদ্ধে সরব হলেন সলমন খান। ‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক পর্বে তাঁর বক্তব্য, কোনও অভিনেতার কাজ পছন্দ না হলে সমালোচনা করা যায়; কিন্তু শরীর, বয়স বা পরিবারকে অপমান করার অধিকার তার থেকে জন্মায় না। নিজের বয়স নিয়েও কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন ষাট বছরের অভিনেতা।
ক্যাটরিনার প্রসঙ্গ টেনে সলমন বলেন, সন্তান জন্মের পরে একজন মহিলা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইতে পারেন। তাঁর শরীরের পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করাকে তিনি অরুচিকর বলেছেন। নিজের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার স্বাভাবিক সত্যটি তুলে ধরেন: ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র সময়কার চেহারা চিরকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। একটি পুরনো পর্দার ছবি দিয়ে বাস্তবের মানুষটিকে অনন্তকাল বিচার করার বিরুদ্ধেই তাঁর আপত্তি।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে একে অন্যের পেশা নিয়ে মন্তব্যের সূত্রে এই আলোচনা শুরু হয়। সলমনের মতে, সমাজমাধ্যম বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই একই পরিসরে অন্যকে হেয় করে মনোযোগ আদায়ের প্রবণতাও রয়েছে। তিনি অবশ্য সব ব্যবহারকারীকে এক সারিতে ফেলেননি; ভালো কাজের উদাহরণও আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
এরপর নিজের দিকে আসা মন্তব্যের জবাব দিতে মঞ্চে গায়ের টি-শার্ট খুলে ফেলেন অভিনেতা। শরীরে চর্বি বেড়েছে বলে যাঁরা বিদ্রুপ করেন, তাঁদের উদ্দেশে নিজের বর্তমান চেহারা দেখান। একই সঙ্গে জানান, তাঁর পেটের পেশি নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠেনি। প্রতিযোগীরা উঠে দাঁড়িয়ে সাড়া দিলেও, বক্তব্যের এই অংশটি ছিল যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ।
একই পোশাক আবার পরা, বয়সের ছাপ, চুলের ধরন—এসব নিয়েও তারকাদের কটাক্ষ শুনতে হয় বলে অভিযোগ করেন সলমন। দর্শক ও অনুরাগীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর বক্তব্যের সারকথা, সিনেমার টিকিট কেনা অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের মালিকানা কেনা নয়। সমালোচনার সঙ্গে গালিগালাজের ফারাকটিও তিনি টানেন। নিজের এবং অন্য সহকর্মীদের কাজ নিয়ে মতামত জানানোয় আপত্তি নেই, আপত্তি ব্যক্তিগত অপমানে।
তবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর সুরেও কথা বলেন। অতীতে একজন বিদ্রুপকারীর বাড়িতে যাওয়ার দাবি করেন এবং অনুরাগী গোষ্ঠী চাইলে কটূক্তিকারীদের পরিচয় জানতে পারে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ওই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। বক্তব্যটির এই অংশ তাই শরীর নিয়ে অপমানের প্রতিবাদের থেকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
এই পর্ব ঘিরে সলমনের স্বাস্থ্য নিয়েও সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রচারের একটি ভিডিওতে তাঁকে বুকে হাত দিতে এবং পড়ে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি নিজেই জানান, তাঁর শরীর খারাপ হয়নি; প্রতিযোগী কাজী তৌকিরকে অসুস্থতা নিয়ে অভিনয়ের প্রভাব বোঝাতে ওই দৃশ্য করা হয়েছিল। সলমন অভিযোগ করেন, প্রচারের ভিডিওটি এমনভাবে কাটা হয় যে উদ্দেশ্যটাই বদলে যায়। পরে সেটি সংশোধন হয়েছে বলেও জানান। ঘটনাটি তাই বাস্তব অসুস্থতার খবর হিসেবে গ্রহণ করার কারণ নেই। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুল ধারণা তৈরির বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্যের পাশেই এই বিভ্রান্তিকর প্রচারের ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার তাৎপর্য বিচার করলে একটি দ্বন্দ্ব চোখে পড়ে। ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার দাবিটি সঙ্গত; কিন্তু তার পক্ষে যুক্তি দিতে নিজের শরীর প্রদর্শন করলে আলোচনাটি ফের শরীরের মূল্যায়নের দিকেই চলে যেতে পারে। কাউকে অপমান না করার শর্ত তাঁর সুগঠিত দেহ হতে পারে না। শরীর যেমনই হোক, নিজের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যে আপত্তি জানানোর অধিকার তাঁর থাকে।
একইভাবে, সাধারণ দর্শকের সমালোচনা আর সংগঠিত হেনস্থাও এক জিনিস নয়। তারকার বিপুল জনপ্রিয়তা যেমন তাঁকে আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলে, তেমনই তাঁর কথার প্রভাবও সাধারণ ব্যবহারকারীর তুলনায় অনেক বেশি। সেই কারণে প্রতিবাদের ভাষাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাটরিনাকে সমর্থন করতে গিয়ে সলমন যে প্রশ্ন সামনে আনলেন, তা শেষ পর্যন্ত শুধু তারকাদের নয়: বিনোদন পেতে গিয়ে অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখা অতিক্রম করা কখন স্বাভাবিক হয়ে উঠল?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



