International

নুন-মরিচে মিল!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • রেস্তোরাঁয় খাবারের সঙ্গে দেওয়া ছোট্ট নুন-মরিচের প্যাকেট—খাওয়া শেষ হলে যার বেশির ভাগই চলে যায় ডাস্টবিনে।
  • কিন্তু উইসকনসিনের এক সংগ্রাহকের কাছে সেগুলিই অমূল্য।
  • একই নকশা বা প্রতিষ্ঠানের ৭৫৪টি নুন-মরিচের মিলযুক্ত জোড়া, অর্থাৎ মোট ১,৫০৮টি প্যাকেট সাজিয়ে তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রেস্তোরাঁয় খাবারের সঙ্গে দেওয়া ছোট্ট নুন-মরিচের প্যাকেট—খাওয়া শেষ হলে যার বেশির ভাগই চলে যায় ডাস্টবিনে। কিন্তু উইসকনসিনের এক সংগ্রাহকের কাছে সেগুলিই অমূল্য। একই নকশা বা প্রতিষ্ঠানের ৭৫৪টি নুন-মরিচের মিলযুক্ত জোড়া, অর্থাৎ মোট ১,৫০৮টি প্যাকেট সাজিয়ে তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড।

শর্তটা অবশ্য বেশ কড়া। শুধু নুনের প্যাকেট হাজারখানেক জমালেই হবে না, মরিচের সঙ্গীটিকেও খুঁজে বের করতে হবে। আকার, চিহ্ন, নকশা বা প্রস্তুতকারকের পরিচয়ে দু’টি প্যাকেটকে পরস্পরের ‘জোড়া’ প্রমাণ করতে হয়েছে। কোনও রেস্তোরাঁয় নুন মিললেও মরিচ না থাকলে সেই গল্প অসম্পূর্ণ—সংগ্রাহকের খাতায় জোড়াও অসম্পূর্ণ।

একসময় এই বিভাগে তিনিই ছিলেন রেকর্ডধারী। পরে অন্য এক সংগ্রাহক সেই সংখ্যা ছাপিয়ে যান। তাতেই থামেননি তিনি। নতুন প্যাকেট জোগাড়, একে একে শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রতিটি জোড়ার ছবি ও নথি তৈরি করে ফের রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়েন। যাচাই শেষে ৭৫৪টি জোড়াই স্বীকৃতি পায়।

ডাকটিকিট, প্রাচীন মুদ্রা বা দুর্লভ শিল্পকর্মের মতো এই সংগ্রহের আর্থিক মূল্য হয়তো নেই। কিন্তু মজাটা অন্য জায়গায়। একটি ছোট প্যাকেটের গায়ে থাকা পুরনো রেস্তোরাঁর নাম, বদলে যাওয়া লোগো, মুদ্রণের ধরন কিংবা নকশা ধরে রাখা যায় কোনও এক সময়ের ক্ষুদ্র ইতিহাস। আজ যে প্যাকেটটি টেবিল থেকে বিরক্তিকর আবর্জনা বলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কয়েক দশক পরে সেটিই হয়ে উঠতে পারে সময়ের সাক্ষী।

অবশ্য এমন সংগ্রহ সামলানোও কম ঝক্কির নয়। আর্দ্রতায় নুন জমাট বাঁধতে পারে, কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে, আবার মরিচের তেল বা গন্ধেও প্যাকেট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুকনো জায়গায়, কীটপতঙ্গের নাগালের বাইরে এগুলি সংরক্ষণ করতে হয়। একবার রেকর্ডের অংশ হয়ে গেলে খাবার হিসেবে ব্যবহার নয়, নিদর্শন হিসেবেই তাদের ভবিষ্যৎ বেশি নিরাপদ।

এই গল্পের আর একটি দিক আছে—অপচয়। ছোট বলে একবার ব্যবহারযোগ্য নুন-মরিচের প্যাকেটের পরিবেশগত প্রভাব ছোট হয়ে যায় না। কাগজ, প্লাস্টিক বা মিশ্র আবরণের কারণে অনেক প্যাকেটই পুনর্ব্যবহার করা কঠিন। এই সংগ্রাহকের ১,৫০৮টি প্যাকেট অন্তত যত্নে ঠাঁই পেয়েছে; কিন্তু রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন তৈরি হওয়া এমন প্যাকেটের সংখ্যা তার বহু গুণ।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই রেকর্ডের আসল মজা সংখ্যায় নয়, মিল খোঁজার নেশায়। কেউ খাবার শেষ করে বিল চান, আর কেউ হয়তো টেবিলের কোণে পড়ে থাকা নুনের প্যাকেটটি দেখে ভাবেন—‘এর মরিচটা কোথায়?’ জীবনের সব জোড়া মেলে না। অন্তত ৭৫৪টি নুন-মরিচের জোড়া যে মিলেছে, তাতেই বা কম কী!

আর রেস্তোরাঁগুলিও যদি প্রয়োজন বুঝে তবেই নুন-মরিচ দেয়, তা হলে পৃথিবীর সব জোড়া না মিললেও অপচয়টা একটু কমতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles