হাইলাইটস:

  • ভোরে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাফথা পাইপলাইনে আগুন লাগে।
  • অন্তত ২০ জন আহত, তাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
  • পাইপলাইনের পাশে থাকা একাধিক ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
  • প্রাথমিক তদন্তে ন্যাফথা চুরির উদ্দেশ্যে পাইপলাইনে অবৈধ ছিদ্র করার অভিযোগ উঠে এসেছে।
  • আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় অবস্থিত হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের (এইচপিএল) একটি ন্যাফথা পাইপলাইনে মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পাইপলাইনের পাশের একাধিক ঝুপড়ি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, আহতদের দ্রুত হলদিয়া ও কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ছয় জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকলের প্রায় ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কারখানার সংলগ্ন এলাকায় ন্যাফথা চুরির জন্য তৈরি করা একটি অবৈধ সংযোগস্থলের কাছেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ন্যাফথা অত্যন্ত দাহ্য এবং অতি সহজে আগুন ধরে যাওয়া এক ধরনের হাইড্রোকার্বন। সংস্থা বহুবার স্থানীয় মানুষকে অনুমতি ছাড়া পাইপলাইন বা পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।

সংস্থার দাবি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কলকাতা থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ন্যাফথাভিত্তিক বৃহৎ পেট্রোরসায়ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাইপলাইন থেকে ন্যাফথা চুরির উদ্দেশ্যে ফাটল বা ছিদ্র তৈরি হওয়ার ফলে গ্যাসীয় পদার্থ বেরিয়ে এসে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই পাইপলাইনের পাশে থাকা ঝুপড়িগুলির বাসিন্দা। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হল এবং এর পিছনে ন্যাফথা চক্রের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।