সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত যন্তর মন্তর, বিক্ষোভকারীদের আটক করল পুলিশ

যা জানা জরুরি
- নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রত্যাহার অথবা আমূল সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির যন্তর মন্তর।
- নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ায় দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স অভিযান শুরু করে।
- ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রত্যাহার অথবা আমূল সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির যন্তর মন্তর। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ায় দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে ঠিক কত জনকে আটক করা হয়েছে, পুলিশ রাত পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর ডাকে এ দিন কয়েকশো মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল সংরক্ষণ-বিরোধী পোস্টার, ব্যানার এবং গেরুয়া পতাকা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতির পরিবর্তে মেধা ও আর্থিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি নথি, চাকরির আবেদন এবং শিক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জাতিগত পরিচয় উল্লেখের নিয়মও তুলে দেওয়ার দাবি তোলা হয়।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু থেকেই স্থান-বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা ২১ আগস্ট যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিলেও দিল্লি পুলিশ আগের দিন স্পষ্ট জানায়, সেখানে কোনও বিক্ষোভ, মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার কথাও জানানো হয়। এই ধারায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের অনুমতিহীন জমায়েত নিষিদ্ধ।
শুক্রবার মধ্য দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনারের দফতর থেকে রামলীলা ময়দানে শান্তিপূর্ণ সভার জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, সর্বাধিক ৫০০ জন সেখানে জড়ো হতে পারবেন এবং বিকেল চারটের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বড় অংশ রামলীলা ময়দানে না গিয়ে যন্তর মন্তরেই অবস্থান করেন। বিকেল চারটের পরেও তাঁরা সেখান থেকে না সরায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। পরে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স যৌথভাবে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে শুরু করে। কয়েক জনকে পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ আটক অভিযান শুরু হয়।
আন্দোলনের আয়োজকেরা অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে কর্মসূচির জন্য প্রায় এক মাস আগে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচির দিন দুপুরে হঠাৎ রামলীলা ময়দান নির্দিষ্ট করে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০০-তে বেঁধে দেওয়া হয়। তাঁদের মতে, এটি আন্দোলনের কণ্ঠস্বর সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বলবৎ নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করেই বিকল্প স্থান দেওয়া হয়েছিল।
‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ মূলত সমাজমাধ্যমনির্ভর প্রচারাভিযান। ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৬ লক্ষ। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যে ভাবে সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের পথে নামিয়েছিল, তার অনুকরণেই এই মঞ্চ জনসমর্থন সংগঠিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আয়োজকেরা অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল বা বিদেশি সংস্থার যোগ নেই। সংরক্ষণের সুবিধা জাতির পরিবর্তে আর্থিকভাবে দুর্বল, প্রতিবন্ধী, অনাথ এবং শহিদ পরিবারের সন্তানদের দেওয়া হোক—এই দাবিতেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তাঁরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



