হাইলাইটস
- বিহারের মুঙ্গেরের একটি বটগাছের বয়স প্রায় ৭০০ বছর বলে নিশ্চিত করলেন বিজ্ঞানীরা।
- প্রথমবার রেডিওকার্বন বিশ্লেষণে কোনও ভারতীয় বটগাছের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এতদিন বটগাছের বয়স নির্ভর করত লোককথা, ঐতিহাসিক তথ্য ও অনুমানের ওপর।
- এই গবেষণা দেশের অন্যান্য প্রাচীন বৃক্ষের বয়স নির্ধারণেও নতুন দিশা দেখাবে।
- শতাব্দীপ্রাচীন এই বটগাছ এখনও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।
ভারতের প্রাচীন বটগাছগুলিকে ঘিরে এতদিন ছিল লোককথা, কিংবদন্তি আর নানা অনুমান। এবার সেই জায়গায় এল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। বিহারের মুঙ্গের জেলার একটি বটগাছের বয়স প্রায় ৭০০ বছর বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষত্ব হল, রেডিওকার্বন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রথম কোনও ভারতীয় বটগাছের প্রকৃত বয়স নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন গবেষকদের এই সাফল্যের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রের প্রেস তথ্য ব্যুরো। গবেষকদের মতে, এটি দেশের প্রাচীনতম বৈজ্ঞানিকভাবে তারিখ নির্ধারিত বটগাছ। ফলে ভারতের উদ্ভিদ ইতিহাস, পরিবেশবিদ্যা এবং সংরক্ষণ গবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রেডিওকার্বন বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরনো জৈব নমুনার বয়স নির্ধারণ করা হয়। এতদিন বটগাছের বয়স নির্ভর করত স্থানীয় লোকবিশ্বাস, ঐতিহাসিক বর্ণনা বা অনুমানের ওপর। নতুন গবেষণায় সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গাছটির প্রকৃত বয়স নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। বটগাছের বয়স নির্ধারণ সহজ নয়। কারণ, এই গাছ সময়ের সঙ্গে নতুন ঝুরি নামিয়ে একাধিক কাণ্ড তৈরি করে এবং ক্রমাগত বিস্তার লাভ করে। তাই গবেষকেরা গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন। সেই পরীক্ষাতেই উঠে এসেছে প্রায় ৭০০ বছরের হিসাব।
পরিবেশবিদদের মতে, এই বটগাছ শুধু একটি প্রাচীন বৃক্ষ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। অসংখ্য পাখি, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাস এই গাছ। পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং কার্বন শোষণেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা দেশের অন্যান্য প্রাচীন বট, অশ্বত্থ ও শতাব্দীপ্রাচীন বৃক্ষের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন পথ খুলে দেবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও এই গবেষণা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।