Home খবর ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী, এবার আফগানিস্তানে হামলায় পাকিস্তান

ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী, এবার আফগানিস্তানে হামলায় পাকিস্তান

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
6 views 3 minutes read
A+A-
Reset

সীমান্তে সন্ত্রাস দমনের দাবি ইসলামাবাদের, বেসামরিক নিহতের অভিযোগ তালিবানের

হাইলাইটস:

  • ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতার পর এবার আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালাল পাকিস্তান।
  • পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তের জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলায় ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
  • তালিবান সরকারের অভিযোগ, বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে অন্তত ৩৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১৬০-র বেশি মানুষ আহত।
  • সীমান্তে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
  • পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিরা হামলার পরিকল্পনা করছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালিবান।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় উঠে এসেছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমনের আশা তৈরি হয়। কিন্তু সেই কূটনৈতিক সাফল্যের আবহ কাটতে না কাটতেই আফগানিস্তানের মাটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় স্থল অভিযান চালিয়ে পরে জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা করা হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানান, এই অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে তালিবান সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৩৮ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৬০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত মার্চে ঈদের সময় স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। কাতার, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং চিনের মধ্যস্থতার উদ্যোগও পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে গত এক মাসে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কেন আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান?

পাকিস্তানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার জবাব দিতেই আফগানিস্তানের ভেতরে এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।সাম্প্রতিক অভিযানের আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দফতরে জঙ্গি হামলায় তিন সেনা নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে এবং একজনকে গ্রেফতার করে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, ধৃত ব্যক্তি আফগান নাগরিক।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এই হামলাগুলির অধিকাংশের পিছনে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী জঙ্গি সংগঠনগুলি।যদিও টিটিপি আফগান তালিবান থেকে পৃথক সংগঠন, পাকিস্তানের অভিযোগ, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই টিটিপি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে টিটিপি জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকেই পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তালিবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা তাদের দায়িত্ব নয়।

কূটনীতি ও সামরিক অভিযান—দুই পথে পাকিস্তান

একদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করার কৃতিত্ব দাবি করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে একই সময়ে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে তারা। ইসলামাবাদের বক্তব্য, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা ভূমিকা পালন করলেও দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি তৎপরতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে একদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শান্তির দূত, অন্যদিকে সীমান্তে কঠোর সামরিক অভিযানের নীতি—এই দুই ভূমিকায় এখন একসঙ্গেই এগোচ্ছে পাকিস্তান।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles