২০২৭ সালের জনগণনা কেবল দেশের মানুষের সংখ্যা জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নাগরিকের জাতি, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থান, আধার নম্বর, মুঠোফোন নম্বর, ব্যাঙ্ক হিসাব এবং করোনার টিকা নেওয়ার স্থান—সব মিলিয়ে মোট ৪০টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ জনসংখ্যা গণনার জন্য এই প্রশ্নমালা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হল জাতিগত পরিচয়। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম দশবার্ষিক জনগণনায় তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির বাইরেও প্রত্যেক নাগরিকের জাতি নথিভুক্ত করা হবে। প্রশ্নমালায় জাতির কোনও পূর্বনির্ধারিত তালিকা থাকার সম্ভাবনা নেই। নাগরিক নিজের জাতিগত পরিচয় যে ভাবে জানাবেন, গণনাকারী সেটিই নথিভুক্ত করবেন। জাতিগত জনগণনার দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে থাকবে নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, বিয়ের সময় বয়স, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, জাতীয়তা এবং বাবা-মায়ের পরিচয়। ধর্ম, মাতৃভাষা, অন্য জানা ভাষা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হবে। বিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন বা স্বামীর থেকে পৃথক থাকা মহিলাদের জীবিত সন্তান, বর্তমান বিবাহের সন্তান এবং গত এক বছরে জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যা জানাতে হবে।

নতুন প্রশ্নমালায় আধার, ভোটার পরিচয়পত্র ও ভারতীয় পাসপোর্টের নম্বর চাওয়া হবে। কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, তাঁর মুঠোফোন নম্বর এবং মোট ব্যাঙ্ক হিসাবের সংখ্যাও নথিভুক্ত হবে। করোনার টিকা নেওয়া হয়েছে কি না শুধু সেটিই নয়, কোথায় টিকা নেওয়া হয়েছিল, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হবে। ফলে ‘টিকার অবস্থা’র চেয়ে ‘টিকাকরণের স্থান’ই প্রশ্নটির মূল বিষয়।

শিক্ষা ও জীবিকা নিয়েও প্রশ্নের পরিধি বাড়ছে। নাগরিক কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছেন কি না, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পাঠ্যবিষয় এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা জানতে চাওয়া হবে। গত এক বছরে তিনি কাজ করেছেন কি না, পেশা কী, কোন শিল্প বা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এবং কী ধরনের কর্মী—সেই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আংশিক কর্মী ও কর্মহীনদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তাঁরা কাজ করতে আগ্রহী বা কাজের জন্য উপলব্ধ কি না।

জন্মস্থান, আগের বাসস্থান, স্থানান্তরের কারণ, বর্তমান ঠিকানায় থাকার মেয়াদ এবং স্থায়ী ঠিকানাও প্রশ্নমালায় রয়েছে। জনগণনাটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে এবং নাগরিকদের নিজের তথ্য অনলাইনে পূরণের সুযোগও দেওয়া হবে। লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলে জনসংখ্যা গণনা ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর চলবে; তার আগে ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট স্বগণনার সুযোগ থাকবে। দেশের বাকি অংশে এই পর্ব শুরু হবে ২০২৭ সালে।