মুহূর্তে ধসে পড়ল বাড়ি, আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ: ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত অন্তত পাঁচ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি।
- দুলতে শুরু করল বহুতল, বাড়ির দেওয়ালে দেখা দিল চওড়া ফাটল।
- কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোনও কোনও বাড়ি ভেঙে পড়ল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে। আচমকাই প্রবলভাবে কেঁপে উঠল মাটি। দুলতে শুরু করল বহুতল, বাড়ির দেওয়ালে দেখা দিল চওড়া ফাটল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোনও কোনও বাড়ি ভেঙে পড়ল। প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে খোলা জায়গার দিকে ছুটলেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্পের সেই মুহূর্ত।
শনিবার ভোরে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় ভোর ৬টার কিছু আগে কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। কেন্দ্রটি ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার নীচে থাকায় কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়। বিপর্যয়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারার গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন সিক্কা এবং তিনজন মাঙ্গারাই এলাকার বাসিন্দা। তবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে একজনের মৃত্যু ও চারজনের আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। উদ্ধারকাজ এগোলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
সমাজমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, লাবুয়ান বাজোর জয়াকার্তা হোটেলের একটি অংশ মুহূর্তে ধসে পড়ছে। ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। অন্য একটি দৃশ্যে বন্দরের একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখা যায়। কোথাও প্রবলভাবে দুলছে সেতু, কোথাও আবার বাড়ির ছাদ ও দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে কংক্রিট। মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। হাসপাতাল থেকেও রোগীদের দ্রুত বাইরে সরিয়ে আনা হয়। খোলা জায়গাতেই শয্যা, অক্সিজেনের বন্দোবস্ত করে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ভূমিকম্পের পর পূর্ব ও পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসির জন্য সুনামি-সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে উঁচু জায়গায় সরে যেতে বলা হয়। কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ নথিভুক্ত হলেও বড় সুনামি না হওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। শুধু নাগেকেও এলাকাতেই প্রায় দু’হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
মূল কম্পনের পরে ৬.১ মাত্রার একটি-সহ কয়েক ডজন পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। ধস নেমেছে একাধিক রাস্তায়; বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প নতুন নয়। কিন্তু ঘুমন্ত জনপদের উপর শনিবারের এই অগভীর, শক্তিশালী কম্পন আরও একবার দেশটির বিপন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে এনে দিল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



