আশ্বাসের আড়ালে গণহত্যা: বসনিয়ার কসাই রাতকো ম্লাদিচের মৃত্যু

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বসনিয়ার পাহাড়ি শহর স্রেব্রেনিৎসা সার্ব বাহিনীর দখলে যাওয়ার পরে আতঙ্কিত মুসলিম বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজয়ী সেনাবাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ।
- তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা চলে যেতে চান, তাঁদের সবাইকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, বৃদ্ধ হোন বা তরুণ।
- মহিলা ও শিশুদের আগে যেতে দিন।” সেদিনের একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, আট বছরের এক মুসলিম বালকের গাল আদর করে তাকে চকোলেট দিচ্ছেন জেনারেল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বসনিয়ার পাহাড়ি শহর স্রেব্রেনিৎসা সার্ব বাহিনীর দখলে যাওয়ার পরে আতঙ্কিত মুসলিম বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজয়ী সেনাবাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ। ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যু হল তাঁর।
তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা চলে যেতে চান, তাঁদের সবাইকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, বৃদ্ধ হোন বা তরুণ। ভয় পাবেন না, তাড়াহুড়ো করবেন না। মহিলা ও শিশুদের আগে যেতে দিন।”
সেদিনের একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, আট বছরের এক মুসলিম বালকের গাল আদর করে তাকে চকোলেট দিচ্ছেন জেনারেল। বলছেন, “দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না। খেয়াল রাখবেন, কোনও শিশু যেন হারিয়ে না যায়। ভয় পাবেন না। কেউ আপনাদের ক্ষতি করবে না।”
অথচ তত ক্ষণে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বয়সি কিংবা অস্ত্র ধরার উপযুক্ত বলে বিবেচিত সমস্ত পুরুষকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে ফেলেছেন ম্লাদিচ। পরবর্তী কালে হেগের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তা প্রতিষ্ঠিত হয়। আট হাজারেরও বেশি পুরুষ ও কিশোরকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। আগের অর্ধশতকে ইউরোপ এমন ভয়াবহ গণহত্যা দেখেনি।
বহু বছর আত্মগোপনে থাকার পরে ২০১৭ সালে স্রেব্রেনিৎসার হত্যাযজ্ঞের জন্য গণহত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন ম্লাদিচ। তার আগের তিন বছরে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের জন্য যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ওই সময় ম্লাদিচ, তাঁর সহযোগী জেনারেলরা এবং বসনীয় সার্ব নেতৃত্ব বসনিয়া থেকে মুসলিম ও ক্রোয়াটদের নির্মূল ও বিতাড়িত করার অভিযান চালিয়েছিলেন।
হেগে রাষ্ট্রপুঞ্জের কারা হাসপাতালে মৃত্যুর সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণিত এই গণহত্যাকারী। কিন্তু সার্বিয়া এবং বসনিয়ার সার্ব-অধ্যুষিত অংশ রিপাবলিকা স্রপস্কার জাতীয়তাবাদীদের কাছে তিনি এখনও নায়ক। যে ঘাতক মতাদর্শের প্রতিমূর্তি ছিলেন ম্লাদিচ, তা যে এখনও প্রবল ভাবে বেঁচে আছে, এ তারই জোরালো প্রমাণ।
দক্ষিণ হার্জেগোভিনার পার্বত্য অঞ্চলের বোজানোভিচি গ্রামে জন্ম রাতকোর। মা স্তানা, বিয়ের আগে যাঁর পদবি ছিল লালোভিচ; বাবা নেদিয়া ম্লাদিচ। নাৎসি এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী ক্রোয়েশীয় উস্তাশে বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একদল প্রতিরোধযোদ্ধার সঙ্গে আত্মগোপন করে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। রাতকো নামের অর্থ ‘যুদ্ধপ্রিয়’। তাঁর বয়স দুই বছর হওয়ার আগেই যুদ্ধে নিহত হন বাবা।
যুদ্ধোত্তর সমাজতান্ত্রিক যুগোস্লাভিয়া তখন প্রতিরোধযুদ্ধের নেতা জোসিপ ব্রজ টিটোর শাসনে। কিশোর ম্লাদিচ কিছু দিন টিনের জিনিস তৈরির কাজ শিখেছিলেন। তার পরে নিজের প্রকৃত কর্মক্ষেত্র খুঁজে পান যুগোস্লাভ ন্যাশনাল আর্মি বা জেএনএ-তে। সামরিক শিক্ষায় কৃতিত্ব দেখিয়ে ১৯৬৫ সালে প্রশিক্ষণ শেষ করেন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী অন্য সেনা আধিকারিকদের মতো তিনিও টিটোর কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।
১৯৬৬ সালে বিয়ে করেন বোসিলকা জেদিচকে। তাঁদের দুই সন্তান—দারকো ও আনা। সেনাবাহিনীতে ধাপে ধাপে পদোন্নতি হতে থাকে তাঁর। ১৯৯১-৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রীয় যুগোস্লাভিয়া ভেঙে পড়ার সময় তিনি ব্রিগেডের অধিনায়ক।
বেঁটেখাটো, গাঁট্টাগোট্টা, রক্তিম মুখের এই সেনানীর মধ্যে যেন যুগোস্লাভিয়ার সমস্ত স্ববিরোধ মূর্ত হয়ে উঠেছিল। মুখে তিনি দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ‘ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য’-এর দলীয় মন্ত্র আওড়াতেন। কিন্তু অন্তরে ছিলেন উগ্র সার্ব জাত্যভিমানী। প্রতিশোধের বাসনা পুষে রেখেছিলেন শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য নয়, পাঁচ শতাব্দীরও বেশি আগে অটোমানদের বিজয়ের জন্যও।
টিটোর মৃত্যুর পরে সমাজতন্ত্রের পুরনো বুলি ক্রমশ প্রভাব হারাতে থাকে। চতুর, মিষ্টভাষী প্রাক্তন ব্যাঙ্কার স্লোবোদান মিলোসেভিচ ১৯৮৯ সালে নেতৃত্বের হাল ধরেন। অচিরেই তিনি বুঝতে পারেন, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার মতাদর্শগত যুক্তি হিসেবে কমিউনিজমের কার্যকারিতা ফুরিয়েছে। অন্য দিকে সার্ব জাতীয়তাবাদ আবার মাথা তুলছে। মিলোসেভিচ দক্ষতার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক বাহন বদলে ফেলেন।
যুগোস্লাভিয়া জুড়ে জেএনএ-র বিভিন্ন সেনাঘাঁটির দায়িত্ব দেওয়া হয় সার্ব আধিকারিকদের। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলবেনীয় জনগোষ্ঠীকে দমন করতে ম্লাদিচকে পাঠানো হয় কসোভোয়। তার পরে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্মে তাঁকে পাঠানো হয় ক্রোয়েশিয়ায়, সে দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাকামী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে। তত দিনে তিনি কর্নেল। যুদ্ধক্ষেত্রে নির্মমতা এবং শত্রুসেনা ও সাধারণ মানুষের উপরে বিধ্বংসী গোলাবর্ষণের জন্য তাঁর কুখ্যাতি বাড়ছিল।
তাই বসনিয়াকে পদানত করতে এবং সারায়েভোর নিয়ন্ত্রণ নিতে রাদোভান কারাদজিচের মতো বসনিয়ার সার্ব বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা যখন একজন সামরিক অধিনায়ক খুঁজছিলেন, তাঁদের পছন্দ হয় ম্লাদিচকে।
তাঁর নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকা স্রপস্কার সেনাবাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র ও সহায়তা জোগাতেন বেলগ্রেডে ক্ষমতাসীন মিলোসেভিচ। যুগোস্লাভিয়ার ধ্বংসস্তূপের উপরে ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ গড়ে তোলাই ছিল তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য কী ভাবে পূরণ করবেন, তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ম্লাদিচের হাতে। ফলে তাঁর জাতিবিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতা বাধাহীন ভাবে বিস্তার লাভ করে।
১৯৯২ সালে তাঁর বাহিনী পশ্চিম ও পূর্ব বসনিয়ায় ঘোড়ার খুরের আকৃতির একটি বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড দখল করে। মুসলিম ও ক্রোয়াটদের হত্যা করা হয়, গড়ে তোলা হয় বন্দিশিবির। বসনিয়ার যুদ্ধে আনুমানিক এক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের প্রায় ৩৮ হাজার ছিলেন সাধারণ নাগরিক। নিহত সাধারণ নাগরিকদের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিলেন বসনিয়াক, অর্থাৎ বসনীয় মুসলিম। এই পরিসংখ্যানের পিছনে বড় ভূমিকা ছিল নিজের লক্ষ্য পূরণে ম্লাদিচের একমুখী তৎপরতার।
নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে নির্মম দক্ষতা দেখালেও সারায়েভোর রক্ষকদের তড়িঘড়ি গড়ে তোলা প্রতিরোধ ভাঙতে পারেননি ম্লাদিচ। পরিবর্তে শহরটিকে ৪৭ মাস অবরুদ্ধ করে রাখেন তিনি—আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে কোনও রাজধানীর দীর্ঘতম অবরোধ। চারপাশের পাহাড়ে বসানো হয় মর্টার। শহরতলির উঁচু বাড়িগুলিতে মোতায়েন করা হয় দূর থেকে নির্ভুল নিশানায় গুলি চালাতে পারা বন্দুকধারীদের, যাতে নাগরিকদের বেছে বেছে হত্যা করা যায়। আড়ি পেতে শোনা এক কথোপকথনে তাঁকে নিজের বাহিনীকে নির্দেশ দিতে শোনা গিয়েছিল, “এমন গোলা বর্ষণ করো, যেন ওদের হুঁশ না থাকে!”
সার্ব আধিপত্য সম্পর্কে ম্লাদিচের প্রকৃত ধারণার ভিত্তি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিগোষ্ঠীগুলিকে ধ্বংস ও উৎখাত করা। শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতা করতে আসা মার্কিন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রনেতাদের মনোযোগ উপভোগ করতেন আত্মপ্রদর্শনপ্রিয় কারাদজিচ। ম্লাদিচের বিদেশিদের জন্য সময় ছিল না। এক মার্কিন আধিকারিক এক বার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কখনও বিদেশে গিয়েছেন কি না। জেনারেলের উত্তর ছিল, “এক বার জেনিভা গিয়েছিলাম। ওখানকার বিয়ার ভাল লাগেনি।”
১৯৯৩ সালে মার্কিন দূত সাইরাস ভ্যান্স ও ব্রিটেনের প্রাক্তন বিদেশসচিব ডেভিড ওয়েনের নেতৃত্বে যুদ্ধ থামানোর একটি উদ্যোগ প্রায় একাই ভেস্তে দেন ম্লাদিচ। কারাদজিচকে অগ্রাহ্য করে ৪৫ মিনিটের জাতীয়তাবাদী আস্ফালনপূর্ণ বক্তৃতায় রিপাবলিকা স্রপস্কার আইনসভাকে ভ্যান্স-ওয়েন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে রাজি করান তিনি।
নিজের নৃশংস ভাবমূর্তি উপভোগ করতেন ম্লাদিচ। কিন্তু তা তাঁর পরিবারকে ধ্বংস করারও অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের বেলগ্রেডে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে আনা এক সার্ব চিকিৎসকের প্রেমে পড়েন। মানবাধিকারকর্মী ওই চিকিৎসক বসনিয়ায় যা ঘটছিল, তাতে আতঙ্কিত ছিলেন। তিনি আনাকে বলেছিলেন, বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করলেই কেবল তাঁকে বিয়ে করবেন। প্রেম ও পারিবারিক আনুগত্যের টানাপড়েনে আটকে পড়ে ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারির এক রাতে প্রদর্শনীর বাক্স থেকে বাবার পিস্তল বার করে নিজেকে গুলি করেন আনা।
ম্লাদিচ কোনও দায় স্বীকার করতে চাননি। বরং ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আঁকড়ে ধরেন। পৃথিবী এবং সেখানে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর ধারণা আরও অন্ধকার হয়ে ওঠে। নিজেকে তিনি দেখতে থাকেন বহু শতাব্দী আগের অটোমান অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে আসা এক সার্ব হিসেবে। রাষ্ট্রপুঞ্জ ঘোষিত নিরাপদ আশ্রয় স্রেব্রেনিৎসায় সেনাবাহিনী নিয়ে ঢুকে তিনি এই বিজয়কে ‘সার্ব জনগণের জন্য উপহার’ বলে ঘোষণা করেন।
নিজের এক সহযোগীর হাতে ধরা ক্যামেরার সামনে ম্লাদিচ বলেন, “অবশেষে এই অঞ্চলে তুর্কিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে।”
তিনি নিজেকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন, সামরিক ইতিহাসের মহানায়কদের সারিতেই তাঁর স্থান। নিজেকে ভাবতেন হ্যানিবল, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ও কার্ল ফন ক্লজ়েভিৎসের ছাত্র। কিন্তু স্রেব্রেনিৎসার গণহত্যার পরে ১৯৯৫ সালে পশ্চিমি বাহিনী অবশেষে ক্রোয়াট ও বসনীয় বাহিনীর পক্ষে হস্তক্ষেপ করলে তাঁর সেনাবাহিনী দ্রুত ভেঙে পড়ে।
১৬ বছরেরও বেশি সময় বিচার এড়িয়ে ছিলেন ম্লাদিচ। সীমান্তের ওপারে সার্বিয়ায় আশ্রয় পেয়েছিলেন তিনি। একের পর এক সামরিক ঘাঁটিতে আরামে ও গোপনে তাঁর থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দলও তৈরি করা হয়। ২০০০ সালে মিলোসেভিচের পতনের পরে সার্বিয়া উদারনীতি ও পশ্চিমপন্থী সরকারের দিকে ঝোঁকে—যদিও সেই পর্ব স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। ম্লাদিচের সুরক্ষাবলয় তখন খসে পড়তে থাকে। ক্রমশ ছোট হয়ে আসা একদল অনুগামীর উপরে নির্ভর করতে বাধ্য হন তিনি। এক গোপন আস্তানা থেকে অন্য আস্তানায় সরে যেতে থাকেন। প্রতিটি নতুন আশ্রয় আগেরটির চেয়ে আরও জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন।
অবশেষে ২০১১ সালের মে মাসে রোমানিয়া সীমান্তের কাছে লাজারেভো গ্রামে এক আত্মীয়ের খামারবাড়ির বাইরের একটি ঘরে তাঁকে খুঁজে পায় সার্বিয়ার পুলিশ। বিড়বিড় করতে থাকা সেই বৃদ্ধকে চেনাই কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি পুলিশকে বলেন, “যাঁকে খুঁজছেন, তাঁকেই পেয়েছেন।”
হেগে নিয়ে যাওয়ার পরে প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের বিচার চলাকালীনও ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতা দেখিয়ে যান তিনি। আদালতে তাঁর বিশৃঙ্খল আচরণের জেরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে রায় ঘোষণার সময় তাঁকে কক্ষের বাইরে রাখা হয়। গণহত্যার একটি, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পাঁচটি এবং যুদ্ধের আইন বা রীতিনীতি লঙ্ঘনের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
নেদারল্যান্ডসের কারাগারে দণ্ডিত বহু সার্ব, ক্রোয়াট ও বসনিয়াক যুদ্ধাপরাধীর মধ্যে এক অদ্ভুত সখ্য গড়ে উঠেছিল। ম্লাদিচ ছিলেন অনড় ব্যতিক্রম। নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন তিনি।
স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকায় মানবিক কারণে তাঁর মুক্তি চেয়েছিলেন আইনজীবীরা। কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হেগের আদালত জানায়, ডাচ কারাগারে তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন। তাঁর হাতে নিপীড়িত মানুষদের যন্ত্রণার তুলনায় এই কারাবাস ছিল অতি সামান্য প্রতিকার। বিচারপতিরা সেই মেয়াদও কমাতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



