নেপাল–তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনও প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও প্রায় ১০০ জনেরও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের অনেকেই কৈলাস–মানসসরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ‘যোগাযোগহীন’ সকলকেই এখনই নিখোঁজ বা মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ ও দূরসংযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। চিনের দিকে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫৩ জন ইতিমধ্যে স্থলপথে নেপালে প্রবেশ করেছেন। বাকিদের অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি জানতে চিনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যায় রাস্তা ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ভারত ও চিনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বেইলি সেতু চেয়েছে নেপাল। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ৪১টি সেতু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। আপৎকালীন যোগাযোগ ফিরিয়ে আনতে ৪২টি অস্থায়ী বেইলি সেতু প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু। কিন্তু নেপালের হাতে এখন মাত্র সাতটি এমন সেতু মজুত রয়েছে। সেই কারণেই দুই প্রতিবেশী দেশের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

বেইলি সেতু ইস্পাতের তৈরি বহনযোগ্য কাঠামো। পৃথক অংশ দ্রুত জুড়ে অল্প সময়ের মধ্যে নদী বা ধসে যাওয়া সড়কের উপর এই সেতু বসানো যায়। বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ, চিকিৎসক, উদ্ধারকারী এবং ভারী যন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলি অত্যন্ত কার্যকর।

ভারত ইতিমধ্যেই নেপালকে বেইলি সেতু ও সেগুলি বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। নেপালে আগে থেকে থাকা একটি ভারতীয় বেইলি সেতুও উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং চিকিৎসকদল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১০০ জন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন বলে খবর।

নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ দেশটির বাহিনী সামলাতে পারছে। তবে সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধার, বিচ্ছিন্ন পরিবহণ ও যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা, মৃতদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দেহ সংরক্ষণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশি কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।

ভারত তিনটি বিমানে প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙা সড়ক, সেতু এবং বিপুল কাদা–পাথরের স্তূপ উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।