খবর

আমেরিকা থেকে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত, চুক্তি সই করল সেনা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: স্থলযুদ্ধে শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়াতে আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক জ্যাভলিন ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে ভারত।
  • ভারতীয় সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বলে শুক্রবার নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।
  • তবে চুক্তির মোট মূল্য এবং ঠিক কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা কেনা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: স্থলযুদ্ধে শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়াতে আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক জ্যাভলিন ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে ভারত। ভারতীয় সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বলে শুক্রবার নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে। তবে চুক্তির মোট মূল্য এবং ঠিক কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা কেনা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।

এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন মাঝারি পাল্লার, একজন সেনার বহনযোগ্য নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথ উদ্যোগে অস্ত্রটি তৈরি হয়। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ‘নিক্ষেপ করে ভুলে যাও’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরে সেনাকে আর সেটি পরিচালনা করতে হয় না। ফলে উৎক্ষেপণের পর দ্রুত অবস্থান বদলে শত্রুর পাল্টা আক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

জ্যাভলিন সরাসরি সামনে থেকে আঘাত করার পাশাপাশি উপর থেকে ট্যাঙ্কে হামলা চালাতে পারে। সাধারণত ট্যাঙ্কের উপরের অংশে বর্ম তুলনামূলক পাতলা থাকে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সেই দুর্বল অংশে আঘাত করে লক্ষ্য ধ্বংস করে। ট্যাঙ্ক ছাড়াও সাঁজোয়া গাড়ি, দুর্গসদৃশ সামরিক অবস্থান এবং নিচু দিয়ে উড়তে থাকা কিছু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা যায়। দিন ও রাত—দুই সময়েই কার্যকর এই অস্ত্র ইতিমধ্যে মার্কিন স্থলবাহিনী, নৌসেনার বিশেষ শাখা এবং একাধিক দেশের সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্হিয়ো গোর বলেছেন, চুক্তিটি ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, এর ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগও তৈরি হবে। ভবিষ্যতে ভারতে জ্যাভলিনের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষের আলোচনা এগোতে পারে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে জ্যাভলিন ব্যবস্থা ও এক্সক্যালিবার নির্ভুল কামানের গোলা বিক্রির সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সেই প্রস্তাবে সর্বাধিক ১০০টি জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৫টি উৎক্ষেপণ-নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কথা ছিল। দুটি অস্ত্র-প্রস্তাবের সম্মিলিত সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। তবে বর্তমান চুক্তির চূড়ান্ত পরিমাণ সেই অনুমোদনের সমান কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এক সময় ভারত জ্যাভলিন কেনার কথা বিবেচনা করলেও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা এগোয়নি। পরে সেনাবাহিনী ইজরায়েলের স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করে। নতুন চুক্তি তাই শুধু ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্কবিধ্বংসী শক্তিবৃদ্ধিই নয়, দীর্ঘদিনের আলোচনার বাস্তব পরিণতি এবং ভারত–আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গভীরতারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles