ফ্লাইদুবাই হামলায় ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প, ভ্যান্সের দাবি: ‘চূড়ান্ত প্রমাণ নেই’

যা জানা জরুরি
- ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে হামলার পিছনে ইরানের হাত রয়েছে—এমনটাই মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- অথচ একই দিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানালেন, ইরানের যোগসাজশের বিষয়ে তিনি এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ দেখেননি।
- তদন্ত চলার মধ্যেই আমেরিকার দুই শীর্ষ নেতার এই ভিন্ন অবস্থান হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে হামলার পিছনে ইরানের হাত রয়েছে—এমনটাই মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ একই দিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানালেন, ইরানের যোগসাজশের বিষয়ে তিনি এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ দেখেননি। তদন্ত চলার মধ্যেই আমেরিকার দুই শীর্ষ নেতার এই ভিন্ন অবস্থান হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
ট্রাম্পের দাবি
সোমবার, ৫ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস, এই হামলার জন্য ইরান দায়ী। তবে নিজের দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।
ফলে এই মুহূর্তে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভ্যান্সের সাবধানী সুর
অন্যদিকে, আলাস্কা যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভ্যান্স অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নেন।
ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং গোয়েন্দা আধিকারিকদের উপর ছেড়ে দিতে চান বলে জানান তিনি। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও প্রমাণ তিনি এখনও দেখেননি।
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ান তখন দুবাই থেকে তেল আভিভের পথে।
অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপর জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা একটি কুড়ুল নিয়ে হামলা করেন। এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
গুরুতর আহত হয়েও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। যাত্রী হিসেবে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলটও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন।
পরে সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।
তদন্তে আপাতত যা জানা
ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সইফ আল শামসি ৩ অক্টোবর জানান, তদন্তে সহকারী পাইলটের সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে হামলাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ছিল—এমন সিদ্ধান্ত এবং এর পিছনে কোনও রাষ্ট্রের হাত ছিল—এমন সিদ্ধান্ত এক নয়।
আমিরশাহির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বস্তুগত ও ডিজিটাল প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে।
একা, নাকি নেপথ্যে কেউ?
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একাধিক মার্কিন আধিকারিক এবং ইজরায়েলের এক প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য হামলাকারীর একাই কাজ করার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তবে তিনি কোনও বৃহত্তর সংগঠন বা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় একক হামলার তত্ত্বকেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না আধিকারিকেরা।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক অভিযোগের কূটনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
হামলাকারীর অতীত এবং তাঁকে বিমানের দায়িত্ব দেওয়ার আগে নিরাপত্তা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওই সহকারী পাইলটের ওমানে বিমান চালানোর উপর আগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তা হলে কীভাবে তিনি পরে ইজরায়েলগামী একটি বাণিজ্যিক বিমানে সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভ্যান্সও জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে বিমান চালানোর সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করতে আমেরিকা নিজেদের নিরাপত্তা ও যাচাইয়ের পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে।
প্রশ্নটা এখনও খোলা
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—ট্রাম্পের অভিযোগ এবং তদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্য এক জায়গায় দাঁড়ায়নি।
ভ্যান্স ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নাকচ করেননি; তিনি শুধু বলেছেন, নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ এখনও তাঁর হাতে নেই। একই ভাবে, আমিরশাহির তদন্তে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, তা নিজে থেকে ইরানের দায় প্রমাণ করে না।
হামলাকারী একাই কাজ করেছিলেন, নাকি তাঁর পিছনে কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের যোগাযোগ ছিল—তার উত্তর এখনও নির্ভর করছে চলমান তদন্তের উপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



