২৮ হাজার ফুট নীচে, ৪ ঘণ্টা আকাশে: কেন ফিরল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমান?

যা জানা জরুরি
- কিন্তু যাত্রার এক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সব পরিকল্পনা।
- জরুরি সংকেত পাঠিয়ে দ্রুত ২৮ হাজার ফুট নীচে নেমে এল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ২৯৫ উড়ান।
- শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশে কাটিয়ে সেই বিমানই ফিরে এল লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
লন্ডন থেকে শিকাগোর পথে উড়েছিল বিমান। কিন্তু যাত্রার এক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সব পরিকল্পনা। জরুরি সংকেত পাঠিয়ে দ্রুত ২৮ হাজার ফুট নীচে নেমে এল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ২৯৫ উড়ান। শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশে কাটিয়ে সেই বিমানই ফিরে এল লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পাইলটেরা বিমানটি হিথরোয় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। বিমান সংস্থার দাবি, তাঁদের “উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটেরা” বিমানটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন এবং যাত্রীদেরও স্বাভাবিকভাবে বিমান থেকে নামানো হয়েছে।
আকাশে বিপদ
হিথরো থেকে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে রওনা হয়েছিল বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি। নির্ধারিত যাত্রার সময় ছিল প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
ওড়ার পরে ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়িয়ে বিমানটি প্রায় ৩৭ হাজার ফুটে পৌঁছয়। কিন্তু যাত্রার প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় আচমকাই শুরু হয় দ্রুত অবতরণ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ৩৭ হাজার ফুট থেকে নেমে আসে মাত্র ৯ হাজার ফুটে। অর্থাৎ, প্রায় ২৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। একই সময় বিমানটি পাঠায় ‘স্কোয়াক ৭৭০০’—যা বিমানের সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি আন্তর্জাতিক সংকেত।
তখন বিমানটি ছিল আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায়।
গন্তব্য বদল
জরুরি পরিস্থিতির পর শিকাগোর বদলে বিমানটির নতুন গন্তব্য হয় লন্ডন। গতিপথ ঘুরিয়ে হিথরোর দিকে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন পাইলটেরা।
তবে সোজা হিথরোর দিকে এগিয়ে যায়নি বিমানটি। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যবর্তী আকাশসীমায় বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কাটে সেটি। তার পরে ধীরে ধীরে লন্ডনের দিকে এগোয়।
কেন চক্কর?
বিমানের এই দীর্ঘ চক্কর কাটার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে জ্বালানি কমিয়ে অবতরণের উপযোগী ওজন তৈরি করা।
দূরপাল্লার যাত্রার জন্য বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বিমানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থাকে। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই যদি কোনও কারণে ফিরে আসতে হয়, সেই জ্বালানি পুরোটা নিয়ে অবতরণ করা সব সময় আদর্শ নয়। তাই পরিস্থিতি ও বিমানের ওজনের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সময় আকাশে চক্কর কেটে জ্বালানি কমানো হতে পারে।
তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের বিবৃতিতে চক্কর কাটার নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে জ্বালানি কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
শেষে হিথরো
বেশ কয়েক বার চক্কর কাটার পরে বিমানটি ধীরে ধীরে অবতরণের উচ্চতায় নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত মোট ৪ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট আকাশে থাকার পরে নিরাপদে হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিএ২৯৫।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের যাত্রা পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংস্থার বক্তব্য, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার”।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



