বাংলাস্ফিয়ার: নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফর্ম ৬-এ নীরবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত ফর্মে আবেদনকারীর নিজের তথ্যের পাশাপাশি বাবা ও মায়ের সম্পর্কিত একটি নতুন অংশ যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের আগে কোনও আনুষ্ঠানিক সংশোধনী (amendment) জারি করা হয়নি, এমনকি জনসাধারণের উদ্দেশে আলাদা কোনও বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি—এমনই দাবি করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফর্মটি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে এবং নতুন ভোটারদের আবেদন গ্রহণেও ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ সংশোধনের আইনি ভিত্তি, কার্যকারিতা শুরুর তারিখ কিংবা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে কমিশনের তরফে কোনও পৃথক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে করা হল যখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তুঙ্গে। নতুন ফর্মে আবেদনকারীকে বাবা ও মায়ের সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দিতে বলা হচ্ছে, যা এসআইআর-এ ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহের কাঠামোর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনকে এসআইআর-এর সঙ্গে যুক্ত করেনি।

প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফর্মে কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে কি আনুষ্ঠানিক সংশোধনী প্রয়োজন নয়? নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফর্মগুলি সাধারণত Registration of Electors Rules, 1960-এর অধীনে নির্দিষ্ট থাকে। ফলে কোনও নতুন তথ্য বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে নিয়ম সংশোধন বা অন্তত স্পষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশিকা প্রকাশের প্রচলিত রীতি রয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দাবি, সংশোধিত ফর্মে নতুন অংশ যুক্ত হলেও এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি বা পৃথক জনবিজ্ঞপ্তির সন্ধান মেলেনি। ফলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মতো একটি সাংবিধানিক অধিকারের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আগে থেকে জানানো উচিত ছিল—এমন মতও উঠে এসেছে।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নাগরিক পরিষেবা পোর্টালে যে ফর্ম ৬ উপলব্ধ রয়েছে, তাতে নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করা যায়। একই সঙ্গে এসআইআর-সংক্রান্ত পরিষেবাও সেই পোর্টালে যুক্ত হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে নতুন ভোটারদের কাছ থেকে এমন তথ্য চাওয়া হচ্ছে যা ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা পারিবারিক উৎস যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এ ধরনের আশঙ্কাকে সমর্থন করে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে কমিশনের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, ভোটার তালিকার যথার্থতা নিশ্চিত করতে পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ নতুন নয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনের তথ্য আগে থেকেও নেওয়া হয়েছে। তবে এবার সেটি ফর্ম ৬-এর কাঠামোর মধ্যেই যুক্ত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে মূল প্রশ্ন তথ্য সংগ্রহ নয়, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। যদি ফর্মের কাঠামো পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে সেই পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি, কার্যকারিতা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

এসআইআর ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। সেই প্রেক্ষাপটে ফর্ম ৬-এ এই নতুন সংযোজন ভবিষ্যতে আইনি বিতর্কেরও বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।