গল্প ভালো লাগছে, যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে লেখক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেখা গল্প মানুষ চিনে ফেলতে পারে—এমন আত্মবিশ্বাস অনেক পাঠকেরই রয়েছে।
- কিন্তু নতুন একটি গবেষণা বলছে, বাস্তবে যন্ত্রের লেখা ও মানুষের লেখা আলাদা করার ক্ষমতা পাঠকদের ধারণার তুলনায় অনেক কম।
- শুধু তা-ই নয়, লেখকের পরিচয় গোপন রাখা হলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের লেখা গল্পের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি গল্পই তাঁদের বেশি পছন্দ হচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেখা গল্প মানুষ চিনে ফেলতে পারে—এমন আত্মবিশ্বাস অনেক পাঠকেরই রয়েছে। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা বলছে, বাস্তবে যন্ত্রের লেখা ও মানুষের লেখা আলাদা করার ক্ষমতা পাঠকদের ধারণার তুলনায় অনেক কম। শুধু তা-ই নয়, লেখকের পরিচয় গোপন রাখা হলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের লেখা গল্পের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি গল্পই তাঁদের বেশি পছন্দ হচ্ছে। অথচ গল্পটি যন্ত্রের লেখা জানিয়ে দিলেই তার মূল্যায়ন নেমে যাচ্ছে।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের ‘জাজমেন্ট অ্যান্ড ডিসিশন মেকিং’ সাময়িকীতে ৫ আগস্ট অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি। ‘বট অর নট: ক্যান পিপল টেল দ্য ডিফারেন্স বিটুইন স্টোরিজ রিটেন বাই আ হিউম্যান অর বাই অ্যান এআই সিস্টেম?’ শীর্ষক গবেষণাটি করেছেন ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি সিয়ার্স এবং ডক্টর ডিনা স্কোলনিক ওয়েইসবার্গ।
তিনটি পৃথক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২,৫৮৭ জন। প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যপত্রিকায় প্রকাশিত মানুষের লেখা তিনটি ছোটগল্পের সঙ্গে একই ধরনের বিষয় নিয়ে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি-৪.০ ব্যবহার করে তৈরি তিনটি গল্পের তুলনা করতে বলা হয়েছিল অংশগ্রহণকারীদের।
প্রথম পরীক্ষায় দেখা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি গল্পকে পাঠকেরা মানুষের লেখা গল্পের তুলনায় উন্নত মানের এবং বেশি আকর্ষণীয় বলে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু তাঁদের যখন বলা হয়, কোনও একটি গল্প মানুষের লেখা, তখন গল্পটি আসলে যন্ত্রের তৈরি হলেও তার মূল্যায়ন বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, এটি ‘অ্যালগরিদম-বিরাগ’-এর স্পষ্ট উদাহরণ—অর্থাৎ কোনও সৃষ্টির উৎস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে জানা গেলে তার প্রতি পাঠকের মনোভাব নেতিবাচক হয়ে ওঠা।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা মানুষের লেখা গল্প সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন মাত্র ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে। অর্থাৎ অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর দেওয়ার সম্ভাব্য সাফল্যের হার থেকেও ফল খারাপ। অন্য একটি পরীক্ষায়, সমাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও পরিচিত হয়ে ওঠার পরে শনাক্তকরণের হার দাঁড়ায় ৫২ শতাংশ। তা সত্ত্বেও এই ফলকে নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ ক্ষমতার প্রমাণ বলা যায় না।
গবেষণার তাৎপর্য এখানেই যে, পাঠকের আপত্তি অনেক সময় লেখার গুণমান নিয়ে নয়, বরং লেখাটির উৎস নিয়ে। গল্পটি না জেনে পড়ার সময় ভাষা, গতি বা আকর্ষণীয়তার বিচারে যন্ত্রের লেখাকে এগিয়ে রাখা হলেও, তার পরিচয় প্রকাশ পেতেই মূল্যায়নের মানদণ্ড বদলে যাচ্ছে।
গত দেড় বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ঘিরে প্রকাশনা জগতে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বই প্রত্যাহার, প্রকাশনা চুক্তি বাতিল এবং কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ লিখিত শব্দের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্রিটেনের লেখকেরা মানুষের লেখা আলাদাভাবে চিহ্নিত করার দাবি তুলেছেন। সাবস্ট্যাকও কোনও লেখার উৎস যাচাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকারী ব্যবস্থা চালু করেছে।
নতুন গবেষণাটি অবশ্য আরও অস্বস্তিকর একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে: পাঠক কি সত্যিই লেখার মধ্যে যন্ত্রের উপস্থিতি শনাক্ত করছেন, নাকি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেখা’ তকমাটিকেই বিচার করছেন? ফলাফল বলছে, গল্প নয়—অনেক সময় গল্পটির লেখক কে, সেই জ্ঞানই পাঠের আনন্দ নষ্ট করছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



