বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য দাগ: কম্পিউটার ঠান্ডা রাখতে বাড়ছে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবি সাধারণত ঝকঝকে যন্ত্রকক্ষ, দ্রুত গণনাযন্ত্র ও অদৃশ্য তথ্যপ্রবাহে তৈরি।
  • সেই ছবিতে রাসায়নিক কারখানার চিমনি বা দূষিত জল থাকে না।
  • ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কেমসেকের নতুন বাজার-সমীক্ষা সেই অনুপস্থিত যোগসূত্রটিই সামনে এনেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবি সাধারণত ঝকঝকে যন্ত্রকক্ষ, দ্রুত গণনাযন্ত্র ও অদৃশ্য তথ্যপ্রবাহে তৈরি। সেই ছবিতে রাসায়নিক কারখানার চিমনি বা দূষিত জল থাকে না। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কেমসেকের নতুন বাজার-সমীক্ষা সেই অনুপস্থিত যোগসূত্রটিই সামনে এনেছে। সংস্থাটির দাবি, অর্ধপরিবাহী চিপ, তথ্যকেন্দ্রের নতুন শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও ব্যাটারির চাহিদা মেটাতে বিশ্বের প্রধান পিএফএএস উৎপাদকদের অধিকাংশ উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

পিএফএএস কোনও একটি পদার্থ নয়; হাজার হাজার ফ্লুরিনযুক্ত রাসায়নিকের পরিবার। তাপ, তেল, জল ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিরুদ্ধে এগুলির অসাধারণ প্রতিরোধ রয়েছে। সেই কারণে চিপ তৈরির অতি-পরিষ্কার প্রক্রিয়া, তারের আবরণ, অগ্নিনিরোধ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং কিছু তরল-শীতলীকরণ ব্যবস্থায় এগুলি কার্যকর। যে রাসায়নিক বন্ধন প্রযুক্তিকে টেকসই করে, সেটিই প্রকৃতিতে পদার্থগুলিকে দীর্ঘদিন অবিকৃত রাখে।

এই স্থায়িত্বের জন্যই তাদের ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ বলা হয়। কিছু পিএফএএস মানুষের রক্ত ও প্রাণীদেহে জমে এবং নির্দিষ্ট ক্যানসার, রোগপ্রতিরোধের দুর্বলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল ও প্রজনন-সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে পরিবারের সব পদার্থের বিষক্রিয়া সমান নয়, বহু নতুন যৌগ সম্পর্কে তথ্যও অসম্পূর্ণ। একটির বিপদ দেখে প্রতিটি পিএফএএসের একই স্বাস্থ্যপ্রভাব ঘোষণা করা বৈজ্ঞানিক হবে না।

কেমসেক বিশ্বের বড় দশ উৎপাদকের বিনিয়োগ-পরিকল্পনা পরীক্ষা করেছে। ডাইকিন, আরকেমা, কেমুর্স ও গুজরাট ফ্লুরোকেমিক্যালসসহ অধিকাংশ সংস্থা এশিয়া, ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আর্ক্রোমা ও বিএএসএফকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—তারা কিছু ক্ষেত্রে পিএফএএস-মুক্ত বিকল্পের দিকে যাচ্ছে। এটি পরিবেশবাদী সংস্থার বাজার-সমীক্ষা, সহকর্মী-পর্যালোচিত বিষবিদ্যা গবেষণা নয়; উৎপাদন ও নির্গমনের সম্পূর্ণ পরিমাণ প্রকাশ্য না থাকাও বড় সীমাবদ্ধতা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য উন্নত চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আরও ঘন যন্ত্রপাতি বেশি তাপ তৈরি করায় কিছু তথ্যকেন্দ্র বাতাসের বদলে সরাসরি তরলে যন্ত্র ঠান্ডা করছে। ব্যবহৃত প্রতিটি তরলে পিএফএএস থাকে না; আবার রাসায়নিকটি বন্ধ ব্যবস্থায় থাকলেই পরিবেশে যাবে—এমনও নয়। বিপদ তৈরি হয় উৎপাদন, দুর্ঘটনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারের শেষে বর্জ্য সামলানোর পর্যায়ে।

নিয়ন্ত্রণের চাপও বাড়ছে। ইউরোপে বিস্তৃত পিএফএএস-নিষেধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে; আমেরিকা ও ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পানীয় জলের মান, কারখানার দায় ও বর্জ্য নিয়ে নিয়ম কঠোর হয়েছে। শিল্পের বক্তব্য, চিকিৎসা, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চিপের মতো জরুরি ব্যবহারের বিকল্প এখনও সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত নয়। পরিবেশবিদদের পাল্টা প্রশ্ন, ‘জরুরি’ ব্যবহারের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে এবং দূষণ পরিষ্কারের ভবিষ্যৎ খরচ কে দেবে।

বিশ্লেষণ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবেশগত হিসাব সাধারণত বিদ্যুৎ, জল ও কার্বন নিঃসরণে সীমাবদ্ধ থাকে। পিএফএএস দেখাচ্ছে, যন্ত্র তৈরির উপকরণ ও শীতলীকরণের রাসায়নিকও সেই হিসাবের অংশ। কোনও প্রশ্নের দ্রুত উত্তর পেতে ব্যবহারকারী যে পরিকাঠামো চালান, তার দূষণ হয়তো তথ্যকেন্দ্র থেকে বহু দূরের কারখানা-শহরে তৈরি হচ্ছে।

সমাধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বন্ধ করা বা সব পিএফএএসকে রাতারাতি নিষিদ্ধ করা নয়। কোথায় কত রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে তার বাধ্যতামূলক প্রকাশ, প্রয়োজনহীন প্রয়োগ বাদ দেওয়া, নিরাপদ বিকল্পে গবেষণা এবং উৎপাদককে পরিষ্কারের খরচ বহন করানো দরকার। ডিজিটাল জগতকে ‘মেঘ’ বলা হয়; নতুন প্রতিবেদন মনে করিয়ে দিল, সেই মেঘের নিচেও মাটি, জল এবং রাসায়নিক বর্জ্য রয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles