খবর

প্যাকেটের সামনে লাল সতর্কতা কবে, দশ দিনের মধ্যে পথনকশা চাইল সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির স্পষ্ট সতর্কীকরণ চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে দশ দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআই গত মাসে দুই ধাপে সতর্কীকরণ চালুর প্রস্তাব দিলেও দ্বিতীয় ধাপ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে বলে আদালত…
  • প্রস্তাবিত প্রথম ধাপে কোনও পণ্যে যোগ করা চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির তিনটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অন্তত দুটি অতিক্রম করলে প্যাকেটের সামনে লাল ষড়ভুজাকার…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির স্পষ্ট সতর্কীকরণ চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে দশ দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআই গত মাসে দুই ধাপে সতর্কীকরণ চালুর প্রস্তাব দিলেও দ্বিতীয় ধাপ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে বলে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত প্রথম ধাপে কোনও পণ্যে যোগ করা চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির তিনটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অন্তত দুটি অতিক্রম করলে প্যাকেটের সামনে লাল ষড়ভুজাকার চিহ্ন বসবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও কঠোর ও বিস্তৃত সতর্কতা কার্যকর করার কথা। ঠিক কোন সীমা, কোন পণ্যে এবং কী আকারে চিহ্ন থাকবে—চূড়ান্ত বিধিতে তা নির্ধারিত হবে।

আদালত বলেছে, গ্রাহক এই চিহ্ন গ্রহণ করবেন কি না তা পরীক্ষা করা কিংবা শিল্পকে পণ্যের উপাদান বদলানোর জন্য সময় দেওয়া—এসব কারণে দ্বিতীয় ধাপের সময়সীমা অনিশ্চিত রাখা যায় না। সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, এফএসএসএআই আদালতের নির্দেশ পরীক্ষা করছে এবং প্রয়োজনে দুই ধাপ একই সঙ্গে কার্যকর করার বিষয়েও ভাবতে পারে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।

ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও স্থূলতার বোঝা বাড়ছে। প্যাকেটের পিছনে পুষ্টিগুণের সারণি থাকলেও ছোট অক্ষর, পরিবেশনের পরিমাণ এবং শতকরা দৈনিক চাহিদার হিসাব সাধারণ ক্রেতার পক্ষে দ্রুত বোঝা কঠিন। সামনের সতর্কচিহ্নের উদ্দেশ্য এক নজরে জানানো—পণ্যটিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কোনও উপাদান মাত্রাতিরিক্ত রয়েছে কি না।

খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাংশের বক্তব্য, লাল সতর্কতা পুষ্টির জটিলতাকে অতিরিক্ত সরল করে এবং গ্রাহককে বিভ্রান্ত করতে পারে। শিল্পের দাবি, পণ্যের পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা না করে একক চিহ্ন দেওয়া অন্যায্য। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সংগঠনগুলির বক্তব্য, সহজ চিহ্ন না থাকলে বিপণনের চাকচিক্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যায়।

কোকা-কোলা, নেসলে ও পেপসিকো-সমর্থিত শিল্পগোষ্ঠীগুলি কঠোর সতর্কতার বিরুদ্ধে তদ্বির করেছে বলে সংবাদ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য, তাদের আপত্তি বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে। অভিযোগের অস্তিত্ব এবং সরকারি সিদ্ধান্তে তার প্রভাব এক বিষয় নয়; নথিবদ্ধ প্রমাণ ছাড়া কোনও সংস্থাকে বিধি বদলে দেওয়ার জন্য দায়ী বলা যাবে না।

বিশ্লেষণ: আদালত কোনও নির্দিষ্ট লেবেল নিজে তৈরি করেনি; সরকারকে সময়বদ্ধ সিদ্ধান্তের পথে ঠেলেছে। সতর্কচিহ্ন একা খাদ্যাভ্যাস বদলাবে না, কিন্তু ক্রেতার তথ্য পাওয়ার অধিকার বাড়াতে পারে এবং সংস্থাকে চিনি-লবণ কমাতে উৎসাহিত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত কার্যকারিতা নির্ভর করবে সীমা কতটা বিজ্ঞানসম্মত, চিহ্ন কতটা দৃশ্যমান এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিপণনের সঙ্গে নিয়মটি কীভাবে যুক্ত হয় তার উপর।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles