Table of Contents
দুর্ঘটনার দায়ে তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী
হাইলাইটস:
- তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা।
- মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকারের গাফিলতির ফল এই দুর্ঘটনা।
- দ্রুত তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ।
- নিহতদের পরিবারের একজনকে চাকরির বিষয়টিও বিবেচনায় সরকারের।
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচও বহন করবে সরকার।
তবে শুধু ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেই থামেননি তিনি। দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি আগের তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এটি কোনও আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষার ফল।
‘বহু বছরের অবহেলার ফল’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে তারাতলা এলাকার সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সেগুলি উপেক্ষা করা হয়েছিল বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরনো অবকাঠামোর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও ক্ষতিপূরণই প্রিয়জনের অভাব পূরণ করতে পারে না। তবু বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
তদন্তে জোর, রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিরীক্ষা
প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
শুধু তারাতলাই নয়, রাজ্যজুড়ে পুরনো সেতু, সরকারি ভবন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিকাঠামোর বিশেষ নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের একাধিক দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শুরু করেছে। কাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দায় খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দায় চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ সামনে আনা উচিত।
যদিও রাজ্য সরকারের বক্তব্য, তদন্তই শেষ কথা বলবে। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অতীতের প্রশাসনিক অব্যবস্থার ইঙ্গিত মিলেছে বলেই দাবি সরকারের। একদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সাহায্য, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কার— এই দুই দিকেই এখন জোর দিচ্ছে প্রশাসন।