দেশ

কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চান?’ বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসকে পাল্টা ওমরের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ‘কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চান?’ বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার কংগ্রেসি পরামর্শের জবাবে এই প্রশ্ন ছুড়লেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
  • বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে তাঁর বক্তব্য, সরকারি অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গান পরিবেশন এখন বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা।
  • সেই নিয়ম অমান্য করার পরামর্শ দিয়ে কংগ্রেস কি কাশ্মীরিদের নতুন করে আইনি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাইছে?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

‘কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চান?’ বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার কংগ্রেসি পরামর্শের জবাবে এই প্রশ্ন ছুড়লেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে তাঁর বক্তব্য, সরকারি অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গান পরিবেশন এখন বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা। সেই নিয়ম অমান্য করার পরামর্শ দিয়ে কংগ্রেস কি কাশ্মীরিদের নতুন করে আইনি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাইছে?

বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে। সেখানে বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবকই পরিবেশিত হয়। উপস্থিত ছিলেন ওমর এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। পূর্ণাঙ্গ গান পরিবেশনের সময়ে তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর পরেই বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক কংগ্রেস প্রকাশ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্সের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ওমরের যুক্তি, কংগ্রেসের আপত্তি থাকলে সংসদেই সংশ্লিষ্ট আইন আটকানোর চেষ্টা করা উচিত ছিল। তাঁর দাবি, যেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, সেখানে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ব্যবস্থা শুধু জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য নয়; কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলির সরকারি অনুষ্ঠানেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। গান চলাকালীন না দাঁড়ালে আইনি পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে নিয়ম মানাকে রাজনৈতিক সমর্থনের সঙ্গে মেলাতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ন্যাশনাল কনফারেন্স বন্দে মাতরমকে আগে গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। কিন্তু সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দ্রুত কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরুক এবং সংসদে এই বিধান বাতিল করুক—তাতে তাঁর দলের কোনও আপত্তি থাকবে না।

এর আগে বুধবার কংগ্রেসের সংগঠনবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে শরিকদেরও প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার অবস্থান নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের পরিকল্পিত ভারতের সমন্বয়বাদী ও বহুত্ববাদী চরিত্রের অসংগতি রয়েছে। তাই বিষয়টিকে শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের নিয়মরক্ষার প্রশ্ন হিসেবে দেখতে নারাজ কংগ্রেস।

বেণুগোপাল মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সর্দার পটেল, সুভাষচন্দ্র বসু, মৌলানা আজাদ-সহ স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের অবস্থানের কথা স্মরণ করান। এই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও বলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, গানটিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের হাতিয়ার হওয়া থেকে রক্ষা করতেই প্রথম দু’টি স্তবক বেছে নেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র রক্ষার অঙ্গ।

কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থানের পিছনে রয়েছে ১৯৩৭ সালের দলীয় সিদ্ধান্ত। গত ১৯ আগস্ট দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ফের জানায়, দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ গান পরিবেশনকে সরকারি অনুষ্ঠানসূচির অন্তর্ভুক্ত করার পরে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বেণুগোপালের বক্তব্য, জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীত কংগ্রেসের কাছে আবেগের বিষয়, বিজেপির কাছে রাজনৈতিক বিষয়।

পাল্টা আক্রমণে ন্যাশনাল কনফারেন্স বিধায়ক তনবীর সাদিক তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কিছু ভিডিয়ো সামনে আনেন। সেগুলিতে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময়ে দুই কংগ্রেস নেতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা শরিক দলের আচরণকে উদ্বেগজনক বলেছেন। কারার মতে, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা নিহিত রয়েছে বৈচিত্র্যময় দেশের মানুষকে একসূত্রে বাঁধার ক্ষমতায়; স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তী সাংবিধানিক বিবর্তনের শিক্ষাকে উপেক্ষা করা উদ্বেগের বিষয়।

এই বাদানুবাদ থেকে স্পষ্ট, মতভেদের কেন্দ্রে রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার টানাপড়েন। কংগ্রেস চাইছে জাতীয় প্রতীক নিয়ে শরিকদের অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান। ওমর সামনে আনছেন নিয়ম অমান্যের সম্ভাব্য পরিণতি। তাঁর জেলের আশঙ্কা তাঁরই আইনি ব্যাখ্যা; সেটিকে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার বিচারিক সিদ্ধান্ত বলা যায় না। আপাতত চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ থেকেই দুই নির্বাচনী সহযোগীর দূরত্ব প্রকাশ্যে এসেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles